![]()
রেজাউল করিম মজুমদার, গাজীপুর
গাজীপুরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী-যুবসমাজ ও তরুণ-তরুণীদের একাংশের অনৈতিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি একটি গভীর সামাজিক উদ্বেগের কারণ। টঙ্গী, জয়দেবপুর, চৌরাস্তা, কোনাবাড়ী ও চান্দ্রা এলাকায় বেশ কিছু আবাসিক হোটেল রয়েছে। গাজীপুরের বাসা-বাড়ীতে এবং নামে-বেনামে গড়ে ওঠা অবৈধ আবাসিক হোটেল ও গেস্টহাউসে অসামাজিক কার্যকলাপ ও অপরাধ বাড়ছে।
আবাসিক এলাকার বাসা-বাড়ী ও ফ্ল্যাটে সাইনবোর্ডবিহীন ছোট ছোট ঘরে অননুমোদিত হোটেল খুলে রমরমা অসদুপায় ও দেহব্যবসা চালানো হচ্ছে।
স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও যুবসমাজ ধ্বংস হচ্ছে এবং এলাকার শান্ত পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।এটি তরুণ প্রজন্মের নৈতিক অবক্ষয়, আইনি লঙ্ঘন এবং সামাজিক নিরাপত্তার জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ। অনেক আবাসিক হোটেল পর্যাপ্ত পরিচয়পত্র যাচাই না করে বা নিয়ম অমান্য করে রুম ভাড়া দিয়ে থাকে। সন্তানরা ক্লাসের সময়ে বা ক্লাসের বাইরে কোথায় যাচ্ছে, সে বিষয়ে অনেক সময় পরিবারের নজরদারি থাকে না। ইন্টারনেটের অপব্যবহার এবং অনিয়ন্ত্রিত যোগাযোগের কারণে তরুণ-তরুণীরা সহজেই বিভ্রান্ত হচ্ছে।
অপ্রাপ্তবয়স্কদের আবাসিক হোটেলে রুম দেওয়া এবং অনৈতিক কাজে লিপ্ত হওয়া দেশের প্রচলিত আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ।
হোটেল রাজমহল আবাসিক টঙ্গী বাসস্ট্যান্ড, হোটেল মধুমতি আবাসিক টঙ্গী বাজার, হোটেল চ্যানেল আবাসিক ঢাকা-ময়মনসিংহ রোড, টঙ্গী, আল মদিনা আবাসিক হোটেল জয়দেবপুর-চৌরাস্তা রোড, মালিক মোঃ কফিল উদ্দিন, হোটেল ই-ভ্যালি আবাসিক চান্দনা চৌরাস্তা, হোটেল ইকো প্যালেস আবাসিক চৌরাস্তা, হোটেল হ্যাভেন আবাসিক কোনাবাড়ী বাসস্ট্যান্ড মালিক রাসেল ও তার স্ত্রী রেশমা, হোটেল নিউ সানরাইজ আবাসিক কোনাবাড়ী মালিক তাপস ও শহিদুল ইসলাম, হোটেল রেইনবো আবাসিক কোনাবাড়ী মালিক ইয়াসিন গাজী, হোটেল মুন আবাসিক কোনাবাড়ী মালিক স্বপন, রোজ ভ্যালি আবাসিক হোটেল কোনাবাড়ী বাসস্ট্যান্ড
এই ধরনের কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হয় এবং অনেক সময় তারা বড় ধরনের অপরাধ বা ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার হয়।
এতে পরিবার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়।পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আবাসিক হোটেলগুলোতে নিয়মিত আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন।
নিয়ম ভঙ্গকারী হোটেলগুলোর লাইসেন্স বাতিল এবং মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
স্কুল-কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং অভিভাবকদের সন্তানদের চলাফেরা ও সঙ্গীদের বিষয়ে আরও বেশি সতর্ক হতে হবে।শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা দরকার। আবাসিক হোটেলে বেআইনি কাজ চলে। পুলিশকে মাসোহারা দিয়ে এই ব্যবসা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই না চেকিং বা অভিযানের ভয় দেখিয়ে হোটেল মালিকদের থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।
অপরাধ চক্র ও বহিরাগতদের আনাগোনা বাড়ায় স্থানীয় সাধারণ বাসিন্দারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এই সামাজিক ব্যাধি দূর করতে সমাজের সকল স্তরের মানুষের সচেতনতা এবং প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি।



মন্তব্য