![]()
বেরোবি প্রতিবেদক :
নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) নবনিযুক্ত ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. আবু হানিফ সরকার এখনো দায়িত্বে যোগদান করেননি। এদিকে তাঁর যোগদানকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাঁকে ট্রেজারার হিসেবে না মানার ঘোষণা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে একটি ব্যানার টানিয়েছে জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরাম।
রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের অনুমোদনক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব মো. সুলতান আহমেদের স্বাক্ষরিত গত ২৩ জুলাইয়ের এক প্রজ্ঞাপনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবু হানিফ সরকারকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ট্রেজারার (কোষাধ্যক্ষ) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর অথবা ৬৭ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া যেটি আগে হবে পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন।
তবে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি যোগদান করেননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে ট্রেজারারের যোগদান প্রজ্ঞাপন দেখেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরামের ব্যানার টানানো হয়েছে। ব্যানারে লেখা হয়েছে, “কট্টর বিএনপিবিরোধী ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির পক্ষের শিক্ষক প্রফেসর ড. মো. আবু হানিফ সরকারকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার হিসেবে মানি না।”ব্যানারটি ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জাতীয়তাবাদী ফোরামের এক কর্মকর্তা বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের আহ্বায়ক এবং সেখানকার জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম থেকে আমাদের কাছে বলা হয়েছে তিনি জাতীয়তাবাদী বিশ্বাসের লোক না। আমাদের কাছে তাদের স্টেটমেন্ট আছে। আমি ক্যাম্পাসে কি করি কোন দল করি এটা আমার ক্যাম্পাসের মানুষরা ভালো জানে, তেমনি জবির ক্যাম্পাস থেকে আমাদের কে জানানো হয়েছে তিনি জাতীয়তাবাদী বিশ্বাসের কেউ নন৷
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বলেন, সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করার পরও কেন যোগদান করছে না সেটা তিনি ভালো বলতে পারবে৷ আমি জানি না ঠিক কী কারণে তিনি প্রজ্ঞাপন হওয়ার পরও যোগদান করছে না৷
অন্যদিকে নবনিযুক্ত ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. আবু হানিফ সরকার বলেন, আপাতত প্রশাসনের তরফ থেকেই কে বিষয়টা হেল্ডআপ হয়ে আছে, যখন আমাকে দেওয়া তখন যোগদান করব৷
কট্টর বিএনপিবিরোধী ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির পক্ষের শিক্ষক বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, যারা এই অভিযোগ করছে তারা কি কোনো প্রমাণ দেখাতে পেরেছে৷ এমন অভিযোগ আমিও আপনার বিরুদ্ধে করতে পারি। আমাকে সরকারি যাচাই বাছাই ছাড়া কি মনোনয়ন দিয়েছে৷ এসব ভিত্তিহীন কথাবার্তা। যারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে তাদের কে জিজ্ঞেস করুন প্রমাণ চান আমি সেটার উত্তর দিব।



মন্তব্য