![]()
হেলাল উদ্দীন, নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
বয়স বাড়লেও দমে যাননি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলার কলিহার গ্রামের ভাদুমুচি। দীর্ঘ পায় ৪০ বছর ধরে জুতো সেলাইয়ের কাজ করছেন এই বয়োবৃদ্ধ মানুষটি। একসময় মাথায় বা কাঁধে জুতো মেরামতের বাক্স নিয়ে পায়ে হেঁটে গ্রাম থেকে গ্রামে ঘুরতেন তিনি। কিন্তু বয়সের ভারে এখন তিনি আর আগের মত হাঁটতে পারেন না। তাই জীবনকে সচল এবং জীবিকা টিকিয়ে রাখতে ধার-দেনা ও কিস্তির টাকা জমিয়ে একটি পুরাতন সাইকেল ক্রয় করেন তিনি। সাইকেলের পিছনে বাঁধা একটি ব্যাগ, আর সেই ব্যাগের ভিতর গোছানো রয়েছে জুতা মেরামতের কল কাবজা ও যন্ত্রাংশ। এখন আর মাইলের পর মাইল হেঁটে ক্লান্ত হতে হয় না, সাইকেলের চাকায় ভর করে প্রতিদিন নাচোলের এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে ছুটে চলছেন এই প্রবীণ সংগ্রামী কারিগর।
সাইকেলের পিছনে ব্যাগে থাকে সূঁচ, শক্ত সুতা, চামড়া কাটার ছুরি, নেহাই (লোহার ছাঁচ), আঠা এবং জুতা পালিশ এর হরেক রকম কালি। মাত্র ১০-১৫ বছর বয়স থেকে শুরু করে আজ জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও জুতো সেলাইয়ের এই আদি পেশাকে আঁকড়ে ধরে আছেন তিনি।
তার চোখের সামনেই গ্রামীণ জীবন ও মানুষের পোশাক-আষাকে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু বদলাইনি তার ভাগ্য। অভাবের সংসারে একসঙ্গে বেশি টাকা যোগাড় করা অসম্ভব ছিল, তাই বিভিন্ন কষ্ট ও কিস্তির মাধ্যমে টাকা পরিশোধের শর্তে সাইকেলটি কিনেন তিনি।
৪০ বছরের এই দীর্ঘ কর্মজীবনে বহু অভাব-অনটন দেখলেও কখনো সততার পথ ছাড়েননি ভাদু মুচি। কিস্তির সাইকেলের প্যাডেলে ভর করে আজও তিনি সচল রেখেছেন তার জীবন ও পরিবারের জীবিকা নির্বাহের চাকা। ‘জিনিসপত্রের যে দাম তাতে প্রতিদিন খুব কষ্টে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়’ চোখে মুখে ক্লান্তির ছাপ নিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে কথাগুলো বলছিলেন ভাদুমুচি। মূলত: বাজারে সস্তা ও অন টাইম প্লাস্টিকের জুতোর ভিড় এবং বর্তমান বাজারের চড়া মূল্যের কারণে চরম সংকটে পড়েছেন তিনি। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে সততার সঙ্গে মানুষের সেবা দিয়ে যাওয়া এই প্রবীণ কারিগরের জীবন এখন কেবলমাত্রই টিকে থাকার এক নির্মম লড়াই। সরকারি বা বেসরকারি কোন মানবিক সহায়তা না পেলে, কিস্তির সাইকেলের প্যাডেল ঘোরানোর এই শেষ যুদ্ধটুকু চালানোও হয়তো তার পক্ষে সম্ভব হবেনা।



মন্তব্য