মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
 

ঘুষ ছাড়া হয় না ফাইল সই জমি রেজিস্ট্রি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬

---

রেজাউল করিম মজুমদার, গাজীপুর 
গাজীপুরের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে জমির দলিল সম্পাদন, রেকর্ড রুম থেকে নকল উত্তোলন এবং বিভিন্ন নাগরিক সেবা প্রদানে বাধ্যতামূলক অতিরিক্ত টাকা আদায় ও ঘুষ-বাণিজ্যের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ধারাবাহিক অভিযান এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে, সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে উত্তোলিত এই অবৈধ আয়ের টাকা নির্দিষ্ট চেইন অব কমান্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন স্তরে ভাগ-বাটোয়ারা হয়।

গাজীপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বেপরোয়া ঘুষ-বাণিজ্য, যেভাবে ভাগ হয় কোটি টাকার সিন্ডিকেট। গাজীপুরের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে (সদর, সালনাসহ বিভিন্ন উপ-কার্যালয়) জমির দলিল করতে আসা সাধারণ নাগরিকদের পকেট কাটছে একটি শক্তিশালী অঘোষিত সিন্ডিকেট। টিআইএন (TIN) সার্টিফিকেটের অজুহাত, দলিলের ছোটখাটো ভুলত্রুটি ধরা বা জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে কোটি কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের বিভিন্ন দুর্নীতি দমন সেল ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একাধিকবার অভিযান চালিয়ে সত্যতা পেলেও দৃশ্যত থামছে না টাকার খেলা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সেবাগ্রহীতাদের জিম্মি করে আদায় করা এই অবৈধ টাকার একটি নির্দিষ্ট ও অলিখিত বণ্টন বা ভাগ রয়েছে। সাব-রেজিস্ট্রার ঘুষ সিন্ডিকেটের শীর্ষ সুবিধাভোগী হলেন সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রার নিজে। দলিলের ভুলত্রুটি এড়িয়ে যাওয়া বা যাচাই-বাছাই ছাড়া সই করার বিনিময়ে দলিলের প্রকারভেদে শতকরা হার বা চুক্তিভিত্তিক মোটা অঙ্কের টাকা সরাসরি তার পকেটে যায়।

অফিসের প্রধান সহকারী ফাইলের টেবিলে টেবিলে ফাইল সই করানো এবং সিরিয়াল ঠিক রাখার জন্য এই স্তরের কর্মকর্তারা বড় অঙ্কের বকশিস বা স্পিড মানি কেটে রাখেন। রেকর্ড রুম থেকে মূল দলিলের নকল (সার্টিফাইড কপি) উত্তোলন বা বালাম বই পরিদর্শনের জন্য প্রতি দলিলের বিপরীতে নির্দিষ্ট হারে ৪,০০ টাকা থেকে শুরু করে জটিলতাভেদে হাজার হাজার টাকা এদের পকেটে যায়।
সাধারণ সেবাগ্রহীতা ও সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে দলিল লেখক সমিতির একাংশ। অনেক সময় সমিতির নাম করে অতিরিক্ত টাকা তুলে তার একটি বড় অংশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করার কথা বলে নিজেদের ফান্ডে রাখা হয়।
উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও তদারকি মহল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দুর্নীতি নির্বিঘ্নে চালু রাখার জন্য জেলা পর্যায়ের প্রধান কার্যালয় ও ঊর্ধ্বতন কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে মাসোহারা বা অলিখিত তুষ্টির টাকা পাঠাতে হয় বলে মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন সূত্রে অভিযোগ রয়েছে।

দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাওলা, হেবা বা পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিলের ক্ষেত্রে কাগজপত্রে ভুল থাক বা না থাক, ১ থেকে ৩ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে ফাইল ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখা হয় এবং নানা আইনি জটিলতা তৈরি করা হয়।
ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের দাবি, এই সিন্ডিকেটের হাত থেকে রক্ষা পেতে ডিজিটাল ফাইলিং ও দলিলের স্বচ্ছ ফি কাঠামো নিশ্চিত করাসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

মন্তব্য

সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর

Developed By: Dotsilicon