![]()
জামাল খান,জেলা সংবাদদাতা
চিকিৎসা ও পর্যাপ্ত অর্থাভাব যে কতটা নিষ্ঠুর হতে পারে, তার এক করুণ দৃষ্টান্ত তৈরি হলো ভোলার দৌলতখানে। সাপে কাটার পর দীর্ঘ নয় দিন ধরে হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরেও মিলেনি জীবন রক্ষাকারী ওষুধ। শেষ পর্যন্ত টাকার অভাবে বিনা চিকিৎসায় প্রাণ হারালেন বাবলু (৩০) নামের এক দরিদ্র জেলে। গত ২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নিজ বাড়িতেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
বাবলু সৈয়দপুর ৭নং ওয়ার্ডের মৃত আহমেদ আলীর ছেলে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নয় দিন আগে রাতের বেলা বাবলুকে বিষধর সাপে কামড় দেয়। পরিবারের সদস্যরা কালবিলম্ব না করে তাকে দ্রুত দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে জীবন রক্ষাকারী ‘অ্যান্টিভেনম’ ইনজেকশন না থাকায় তাকে দ্রুত ভোলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়।
ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও সেখানে কাঙ্ক্ষিত মেলেনি সঠিক চিকিৎসা; চিকিৎসকরা তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। বরিশালে নেওয়ার পর জানানো হয় অ্যান্টিভেনম বাইরে থেকে কিনে আনতে হবে। কিন্তু চরম দরিদ্র জেলে বাবলুর পরিবারের পক্ষে সেই ব্যয়বহুল ওষুধ কেনার সামর্থ্য ছিল না।
উপায়ান্তর না দেখে উন্নত চিকিৎসার আশায় এবং টাকার জোড়াতালি দেওয়ার চেষ্টায় তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। কিন্তু ঢাকার হাসপাতালেও অর্থাভাব ও প্রয়োজনীয় ফি দিতে না পেরে একপর্যায়ে বিনা চিকিৎসাতেই তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হন স্বজনরা। টানা নয় দিন বিষাক্ত যন্ত্রণার সাথে লড়াই করে অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানেন এই দিনআনা দিনখাওয়া তরুণ।
নিহত বাবলুর আকস্মিক মৃত্যুতে তার পরিবারে নেমে এসেছে চরম শোকের ছায়া। বাবলুর অবুঝ দুটি ছোট সন্তান রয়েছে। উপার্জনের একমাত্র মানুষটিকে হারিয়ে এখন অথৈ সাগরে পড়েছেন তার স্ত্রী ও শিশুরা।
অসহায় পরিবারটির ভবিষ্যৎ এখন অন্ধকার। বাবলুর পরিবার ও স্থানীয়রা বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষদের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন, যেন এই এতিম দুটি শিশুর মুখে দুবেলা অন্ন তুলে দেওয়া এবং তাদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়।



মন্তব্য