![]()
রেজাউল করিম মজুমদার
গাজীপুরে অবৈধ অটোরিকশা ও সিএনজি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সময় স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি, তথাকথিত শ্রমিক বা মালিক সমিতি এবং ট্রাফিক ভলান্টিয়ার পরিচয়ে গড়ে ওঠা দালাল চক্র সিন্ডিকেট পরিচালনা করে থাকে। গাজীপুরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার কোনো নির্দিষ্ট বা সরকারি সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই। তবে বিভিন্ন তথ্যানুযায়ী, শুধু গাজীপুর শহরেই প্রায় তিন লাখ এবং ঢাকা ও গাজীপুর মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ অটোরিকশা চলাচল করে। গ্যারেজ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুধু গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন ও আশপাশের এলাকায় প্রায় ৩ লাখের মতো অবৈধ বা অননুমোদিত অটোরিকশা রয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব অবৈধ যান থেকে মাসিক লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়, যার একটি বড় অংশ স্থানীয় লাইনম্যান ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলের পকেটে যায়। গাজীপুরে বিভিন্ন স্ট্যান্ড ও সড়কে অবৈধ অটোরিকশা ও সিএনজি থেকে প্রতিদিন ১০০ টাকা থেকে শুরু করে প্রতি মাসে প্রায় ১,৫০০ থেকে ২,০০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেওয়া হয়।
- বেপরোয়া অটোরিকশার নিয়ন্ত্রণে কারা?
- দিন দিন ব্যাটারী চালিত অটোরিকশা বাড়ছে
- মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে
- অটোরিকশা থেকে দিন দিন চাঁদাবাজিও বাড়ছে
স্থানভেদে এই চাঁদার হার দৈনিক ১০ থেকে ৫০ টাকা বা মাসিক চুক্তিতে আদায় করা হয়ে থাকে। বিভিন্ন মোড় ও পয়েন্টে প্রতি গাড়ী থেকে দৈনিক ১০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। মহাসড়ক ও বিভিন্ন রোডে গাড়ী চালানোর জন্য পুলিশের দালাল চক্রের মাধ্যমে মাসিক চুক্তিতে বড় অঙ্কের লেনদেন হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচল ও মহাসড়কে এর উপস্থিতি দেশে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা প্রায়ই প্রাণহানি ও মারাত্মক আঘাতের ঘটনা ঘটাচ্ছে। মহাসড়ক ও অলিগলিতে এসব গাড়ী চলাচল করলেও এদের বেশিরভাগেরই কোনো বৈধ লাইসেন্স বা সরকারি অনুমতি নেই। চালকদের অদক্ষতা এবং দ্রুত চালানোর প্রবণতা। ট্রাক বা বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে অটোরিকশা সম্পূর্ণ দুমড়েমুচড়ে যায়। ট্রাফিক ভলান্টিয়ার ও দালাল চক্র বিভিন্ন সংবাদে মজিবর রানা এবং আদিল নামের ব্যক্তিদের অনুসারীদের বিরুদ্ধে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের নামে অবৈধ অটোরিকশা থেকে দৈনিক চাঁদা তোলার অভিযোগ উঠে এসেছে।
রাজনৈতিক ও স্থানীয় নামে বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন দলীয় পদধারী নেতাকর্মী বা তাদের অনুসারী ও স্থানীয় কমিটি (যেমন বিভিন্ন মালিক-শ্রমিক ও লাইন নিয়ন্ত্রণকারী গ্রুপ) এসব নিয়ন্ত্রণের নেপথ্যে থাকে। তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুর মহাসড়ক ও অলিগলিতে চলাচলকারী শত শত অটোরিকশা থেকে মাসিক বা দৈনিক ভিত্তিতে বড় অংকের টাকা (কোটি টাকার কাছাকাছি বা তার বেশি) চাঁদা হিসেবে লেনদেন হয়। বিআরটিএ এবং পুলিশ প্রশাসন বারবার জানিয়েছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার কোনো বৈধতা বা লাইসেন্স দেওয়ার নীতিমালা নেই এবং এ ধরনের অবৈধ চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। অবৈধভাবে ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার গ্যারেজগুলোর বিদ্যুৎ লাইন কেটে দেওয়া এবং বৈদ্যুতিক মিটার বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সচেতন মহলের দাবি অনুযায়ী, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ট্রাফিক পুলিশকে অবৈধ অটোরিকশার বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি মূল উৎস অর্থাৎ তৈরির কারখানা ও গ্যারেজগুলো সিলগালা করার দাবি জানিয়েছে। সড়কে শুধু গাড়ী আটকিয়ে সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়, বরং যেখানে এসব অটোরিকশার যন্ত্রাংশ জোড়া লাগানো বা তৈরি হয়, সেই ওয়ার্কশপ ও কারখানাগুলো ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে অভিযান চালিয়ে স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে।



মন্তব্য