রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
 

পাথরঘাটায় সরকারি রাস্তার ইট উধাও, তদন্তের পাশাপাশি উন্নয়নের দাবি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬

---

পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি:
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার ৫ নম্বর কালমেঘা ইউনিয়নে সরকারি রাস্তা থেকে ইট চুরির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, চুরি হওয়া ইট উদ্ধার এবং দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উন্নয়নের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর দুটি পৃথক লিখিত আবেদন করা হয়েছে।
আবেদন অনুযায়ী, কালমেঘা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাঞ্চুরহাট বাজার থেকে খেজমত আলী রাড়ীর বাড়ির সামনে হয়ে দক্ষিণে খালেক সিকদারের বাড়ি পর্যন্ত এবং সেখান থেকে পূর্ব গ্রামের দক্ষিণ প্রান্তের বেড়িবাঁধ পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া ছোনবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশের সড়কে একাধিক স্থানে বক্স কালভার্ট নির্মাণের প্রয়োজন রয়েছে।
আবেদনে বলা হয়েছে, বর্ষা মৌসুমে সড়কের বিভিন্ন অংশে কাদাপানি জমে থাকায় শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষকসহ সাধারণ মানুষের চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ অবস্থায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর অর্থায়নে সড়কটির উন্নয়ন, পেভমেন্ট নির্মাণ, প্রয়োজনীয় বক্স কালভার্ট স্থাপন এবং সড়কটির আইডি নম্বর নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে পৃথক আরেকটি আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, ইউনিয়নের ছোনবুনিয়া গ্রামের ঠাকুরবাড়ী খালের উত্তর ও দক্ষিণ পাড়ের সরকারি ইটের রাস্তা থেকে দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু চক্র ইট খুলে নিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিগত স্থাপনায় ব্যবহার করছে। ফলে সরকারি সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলেও মারাত্মক দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
আবেদনকারী দাবি করেন, নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করলে রাস্তার পাশের কয়েকটি বাড়ি, বিশেষ করে খেজমত আলী রাড়ীর বাড়ির আশপাশ থেকে সরকারি রাস্তার চুরি হওয়া ইট উদ্ধার করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানানো হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সরকারি রাস্তা থেকে তুলে নেওয়া ইট আশপাশের বিভিন্ন বাড়ির প্রবেশপথ, উঠান, পুকুরপাড়, বাথরুম এবং প্রস্রাবখানার চলাচলের পথে ব্যবহার করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এভাবে সরকারি রাস্তার ইট লুটপাট হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে কালমেঘা ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক মনিরুল ইসলাম বলেন, “সরকারি রাস্তার ইট চুরির ঘটনাটি দ্রুত তদন্ত করে চুরি হওয়া ইট উদ্ধার করতে হবে। পাশাপাশি এলজিইডির অর্থায়নে প্রয়োজনীয় সড়ক উন্নয়ন ও বক্স কালভার্ট নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”
পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক চৌধুরী মো. ফারুক বলেন, সরকারি সম্পদ লুটপাট কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপস পাল বলেন, আবেদন দুটি গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দ্রুত তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি জনদুর্ভোগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে এবং সড়ক সংস্কারের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

মন্তব্য

সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর

Developed By: Dotsilicon