বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
 

নাগরপুরের দুই সাংবাদিক বিএমএসএসের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক নির্বাচিত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬

---

সোলায়মান,নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:

নাগরপুরের সাংবাদিক অঙ্গনের জন্য এটি একটি গৌরবোজ্জ্বল অর্জন। দীর্ঘদিনের পেশাদারিত্ব, সততা, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ নাগরপুরের দুই কৃতী সাংবাদিক মো. আমজাদ হোসেন রতন ও ডা. এম. এ. মান্নান বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক সোসাইটি (বিএমএসএস)-এর ২০২৬–২০২৭ সেশনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সম্পাদক পদে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের এই অর্জনে নাগরপুরের সাংবাদিক সমাজ, সুশীল সমাজ ও সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।

সংগঠনের ঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে মো. আমজাদ হোসেন রতন গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং ডা. এম. এ. মান্নান উপ-স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। গত সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান খন্দকার আছিফুর রহমান কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেন।

সংগঠন সূত্রে জানা যায়, সাংবাদিকতা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা, দক্ষতা, সততা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাদের নিজ নিজ পদে পুনর্বহাল করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান খন্দকার আছিফুর রহমান বলেন, “মো. আমজাদ হোসেন রতন ও ডা. এম. এ. মান্নান দু’জনই সংগঠনের অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ, সৎ ও দক্ষ সংগঠক। তারা দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাদের কর্মদক্ষতা, নেতৃত্ব ও পেশাগত অভিজ্ঞতা সংগঠনকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। তাদের উত্তরোত্তর সফলতা কামনা করছি।”
মো. আমজাদ হোসেন রতন নাগরপুর উপজেলার ঘিওরকোল গ্রামের কৃতী সন্তান। প্রায় তিন দশক ধরে সাংবাদিকতা পেশায় নিষ্ঠা, সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে তিনি জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন গণমাধ্যমে একজন অভিজ্ঞ, নির্ভীক ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিক হিসেবে সুনাম অর্জন করেছেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন। তাঁর পেশাগত অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে আন্তর্জাতিক সম্মাননা, গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ডসহ নানা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

অপরদিকে ডা. এম. এ. মান্নান নাগরপুর উপজেলার দুয়াজানী কলেজপাড়ার বাসিন্দা। ইংরেজি সাহিত্য ও আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে উচ্চতর শিক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ অর্জন করেছেন। ২০০৯ সালে সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত হয়ে তিনি পেশাগত দক্ষতা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছেন। সাংবাদিকতা ও সংগঠক হিসেবে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ডসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
সাপ্তাহিক চলনবিলের আলো-এর সম্পাদক ও প্রকাশক মো. রফিকুল ইসলাম রনি বলেন, “আমজাদ হোসেন রতন ও ডা. এম. এ. মান্নান দু’জনই সাংবাদিকতার নৈতিকতা, পেশাগত সততা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাদের পুনর্নির্বাচন শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি নাগরপুরের সাংবাদিক সমাজের জন্যও গর্বের বিষয়। তাদের এই অর্জন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সাংবাদিকদের অনুপ্রাণিত করবে।”

নাগরপুর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. আনিসুর রহমান বলেন, “যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন সব সময়ই নতুন প্রেরণার জন্ম দেয়। নাগরপুরের দুই কৃতী সাংবাদিকের জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব লাভ আমাদের সবার জন্য গর্ব ও আনন্দের। তাদের এই সাফল্য নাগরপুরের ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল করবে এবং তরুণ সাংবাদিকদের সামনে সৎ, আদর্শিক ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।”

স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন মহল মনে করছেন, জাতীয় পর্যায়ে নাগরপুরের দুই সাংবাদিকের এ সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি পুরো উপজেলার সাংবাদিক সমাজের জন্য সম্মানের। তাদের অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব ও পেশাগত দক্ষতা বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক সোসাইটির কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেছেন।

মন্তব্য

সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর

Developed By: Dotsilicon