![]()
রায়হান শেখ, মোল্লাহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:
জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও থামেনি সংগ্রাম। বয়স ৮৮ বছর হলেও প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে একটি ভ্যানে মুড়ি ও প্রয়োজনীয় মসলা সাজিয়ে জীবিকার সন্ধানে বেরিয়ে পড়েন বৃদ্ধ আলাল মিয়া। উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজের গেটে গেটে ঘুরে মুড়ি বিক্রি করেই চলে তাঁর এবং অসুস্থ স্ত্রীর জীবন-সংসার।
আলাল মিয়া (৮৮), পিতা: মৃত আলতাপ মিয়া। তিনি বর্তমানে বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার কদমতলা আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৬ নম্বর ঘরে বসবাস করেন। তাঁর দুই ছেলে ও দুই মেয়ে থাকলেও সবাই বিবাহিত এবং পৃথকভাবে বসবাস করেন। নিজের নামে কোনো জমিজমা বা স্থায়ী সম্পত্তি নেই।
দীর্ঘদিন ধরে মুড়ি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন আলাল মিয়া। উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অসংখ্য শিক্ষার্থী তাঁকে চেনেন। বয়সের ভারে ন্যুব্জ শরীর, নানা রোগে আক্রান্ত হলেও সংসারের প্রয়োজনে তাঁকে প্রতিদিনই রাস্তায় নামতে হয়। কারণ, সেদিন মুড়ি বিক্রি না হলে বাজার করা সম্ভব হয় না, আর বাজার না হলে চুলাও জ্বলে না।
শুধু তাই নয়, নিজের চিকিৎসার পাশাপাশি অসুস্থ স্ত্রীর ওষুধের খরচও বহন করতে হয় তাঁকে। সীমিত আয়ের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে চরম হিমশিম খেতে হচ্ছে এই বৃদ্ধ দম্পতিকে। অভাব-অনটনের মধ্যেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।
স্থানীয় সচেতন মহল সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, দানশীল প্রতিষ্ঠান ও মানবিক সংগঠনগুলোর প্রতি আলাল মিয়ার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, সামান্য আর্থিক সহায়তা কিংবা নিয়মিত সহযোগিতা এই বৃদ্ধ দম্পতির জীবনে কিছুটা স্বস্তি এনে দিতে পারে।
আলাল মিয়াকে সহযোগিতা করতে আগ্রহীরা সরাসরি তাঁর সঙ্গে ০১৯০২-৭৭৪২৩৩ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন।



মন্তব্য