![]()
গাজীপুর সংবাদদাতা
গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস এলাকাটি মাদক, জুয়া, অবৈধ চাঁদাবাজি এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অন্যতম একটি হটস্পট বা উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সংযোগস্থল হওয়ায় ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে অপরাধী চক্র এই এলাকাটিকে ট্রানজিট ও আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করে। গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস ও এর আশেপাশের অপরাধের চিত্র এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা না থাকার কারণে অপরাধ দিন দিন বাড়ছে। গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস ব্যবহার করে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চল থেকে আসা দূরপাল্লার বাস, ট্রাকে করে মাদক বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় কিছু চক্রের মাধ্যমে মহাসড়কের আশেপাশে এবং ফুটপাতের কিছু এলাকায় ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিল বেচাকেনা হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই এলাকার ভাসমান হোটেল, কিছু ক্লাব এবং নির্জন স্থানে রাতের আঁধারে ঐতিহ্যবাহী তাসের জুয়া বা বোর্ডের আসর বসে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রচলিত জুয়ার পাশাপাশি ভোগড়া ও এর আশেপাশের এলাকায় অনলাইন ক্যাসিনো এবং অবৈধ গেমিং অ্যাপের মাধ্যমে জুয়া খেলার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। সম্প্রতি গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) এই ধরনের অনলাইন জুয়া চক্রের মূল হোতাদের বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল ডিভাইসসহ গ্রেপ্তার না করলে, যুব সমাজ দিন দিন ধ্বংসের মুখে চলে যাবে। স্থানীয় রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী চক্রের ছত্রছায়ায় গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাসের ফুটপাতের দোকান, হকার এবং লেগুনা-বাস স্ট্যান্ড থেকে নিয়মিত অবৈধ চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। সন্ধ্যার পর বা রাতের শেষ ভাগে বাইপাস এলাকায় যাতায়াতকারী যাত্রী এবং পোশাক কারখানার শ্রমিকদের টার্গেট করে ছিনতাইকারী চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই জোনটিকে অপরাধমুক্ত করতে সর্বদায় ডিসি, ডিআইজি, এসপি এবং থানার ওসিদের কঠোর হতে হবে। তাহলে সম্ভব যুব সমাজ রক্ষা করা, এলাকার রক্ষা করা।



মন্তব্য