![]()
লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
নাটোরের লালপুর উপজেলায় ইটভাটার জন্য অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কাটতে গিয়ে চরম ঝুঁকিতে পড়েছে একটি সচল বৈদ্যুতিক খুঁটি। বিলমাড়ীয়া ইউনিয়নের বন্দোবস্ত গোবিন্দপুর এলাকায় পদ্মা নদীর চরে গ্রামে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। খুঁটিটি ভেঙে পড়লে প্রায় ২ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি প্রাণহানির ঝুঁকিও রয়েছে। স্থানীয় সূত্র, থানা ও এজাহার থেকে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় একটি ইটভাটার জন্য ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা হচ্ছিল। এতে একপর্যায়ে (LA-10J-77-3) নম্বরের বৈদ্যুতিক খুঁটির গোড়ার মাটিও কেটে নেওয়া হয়। ফলে খুঁটির ভিত্তি মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। বর্তমানে এটি সামান্য মাটির ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যা ভারী বৃষ্টি বা ঝোড়ো বাতাসে যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে রোববার রাতে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর পক্ষ থেকে লালপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে উপজেলার বালিতিতা রামকৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত মারফত হালসানার ছেলে ইটভাটা মালিক মো. মাহাবুল হালসানা (৪৫) ও সাহাবুল হালসানা (৪০)-কে। নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর ডিজিএম মো. রেজাউল করিম জানান, রোববার সকালে বিলমাড়িয়া এলাকায় অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে যাওয়ার সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবীর হোসেন ঘটনাটি সরেজমিনে দেখতে পান। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বরকত উল্লাহকে অবহিত করা হলে তিনি জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এর পরপরই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় এবং খুঁটিটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম পলাশ জানান, পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের করা অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে, অভিযুক্ত মাহাবুল হালসানা ও সাহাবুল হালসানার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, গত সাত মাসে লালপুর উপজেলা প্রশাসন অবৈধ বালু ও মাটি কাটার বিরুদ্ধে ২০টি অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন এবং ভূমি অপরাধ ও প্রতিকার আইনে ২৫ জনের বিরুদ্ধে ২২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং প্রায় ১৫ লাখ টাকার বেশি জরিমানা আদায় করা হয়েছে। তবুও থামছে না অবৈধ মাটি কাটার প্রবণতা, যা দিন দিন জননিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে।



মন্তব্য