![]()
ক্রাইম রিপোর্টার চট্টগ্রাম, আব্দুল হালিম (নিরব)
আলো ঝলমলে ডান্স ফ্লোর আর সংস্কৃতির আড়ালে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় গড়ে উঠেছে এক ভয়ংকর অনৈতিক নারী পাচার ও দেহব্যবসার সিন্ডিকেট। পতেঙ্গাবাসীর দীর্ঘদিনের অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে নেমে বেরিয়ে এসেছে ডান্স মাস্টার মুরাদের পেছনের আসল গডফাদার আব্দুর রব ওরফে ‘রব বাবুর্চি’র নাম। বাবুর্চির ছদ্মবেশ আর ডান্স ক্লাবের সাইনবোর্ড—এই দুইয়ের আড়ালে পতেঙ্গা ও সৈকত এলাকাকে অপরাধের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে এই চক্র। তিন পর্বের ধারাবাহিক অনুসন্ধানের আজ প্রথম পর্ব।
৮ জুনের সেই রাত: সৈকত বিলাসে যা ঘটেছিল
অনুসন্ধানে জানা যায়, ডান্স মাস্টার মুরাদের সন্দেহজনক চলাফেরার ওপর স্থানীয় সচেতন মহল ও অনুসন্ধানকারীদের নজরদারি ছিল দীর্ঘদিনের। গত ৮ জুন (২০২৬) সন্ধ্যায় গোপন সূত্রে খবর আসে, মাস্টার মুরাদ একটি মেয়েকে নিয়ে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের দিকে রওনা হয়েছে।
ছদ্মবেশে সত্যতা যাচাইয়ের জন্য পতেঙ্গার ‘সৈকত বিলাস’ আবাসিক হোটেলের ম্যানেজার আনোয়ার হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। মাত্র ৩ হাজার টাকার চুক্তিতে দুই ঘণ্টার জন্য একটি মেয়ে এনে দিতে রাজি হয় ম্যানেজার আনোয়ার। রাত ঠিক ১০টা ১৫ মিনিটে যখন অনুসন্ধান দল ‘সৈকত বিলাস’ হোটেলের কক্ষে প্রবেশ করে, তখন সেখানে কেবল সেই যুবতীই নয়, হাতেনাতে দেখা মেলে ডান্স মাস্টার মুরাদ এবং এই পুরো সিন্ডিকেটের মূল হোতা আব্দুর রবের।
‘আমি তো তার কেনা গোলাম’
নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভুক্তভোগী সেই তরুণী অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে এই প্রতিবেদকের কাছে যে জবানবন্দি দিয়েছেন, তা অত্যন্ত লোমহর্ষক। তিনি জানান:
“আমি আব্দুর রবের কাছে বন্দি। লোকচক্ষুর আড়ালে সে আমাকে নিজের স্ত্রী পরিচয় দিলেও মূলত বিভিন্ন প্রভাবশালীদের কাছে ‘প্রোগ্রাম’-এর নামে পাঠায়। সব টাকা রব একাই লুটে নেয়। আমি তো কেবল তার কেনা গোলাম। এই নরক থেকে পালাতে চাইলেও পারি না, কারণ থানার প্রভাবশালী কর্মকর্তা থেকে শুরু করে স্থানীয় কতিপয় রাজনৈতিক নেতার সাথে তার দহরম-মহরম। এমনকি কিছু নামধারী অনলাইন সাংবাদিকও এই চক্রের ভাগীদার।”
ডান্স মাস্টার থেকে ‘রব বাবুর্চি’: যেভাবে বিস্তার অপরাধের
অনুসন্ধানে আব্দুর রবের অতীত ঘাঁটতে গিয়ে জানা যায়, একসময় চট্টগ্রামের নতুন ব্রিজ এলাকায় তার একটি ডান্স ক্লাব ছিল। সেখানে নাচের আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনতা তার সেই আস্তানা গুঁড়িয়ে দেয়।
নতুন ব্রিজ থেকে বিতাড়িত হয়ে রব তার কৌশল পরিবর্তন করে। পতেঙ্গা এলাকায় এসে সে নিজেকে আড়াল করতে “রব বাবুর্চি” নামে পরিচিতি পায়। রান্নার ডেকচির আড়ালে মূলত সে পতেঙ্গার ডান্স মাস্টার মুরাদকে সাথে নিয়ে গড়ে তোলে বিশাল এক অনৈতিক নারী সাপ্লাইয়ের সিন্ডিকেট। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে সে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ছদ্মনামে বাসা ভাড়া নিয়ে এই ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।
পতেঙ্গা এলাকার এই বিস্তৃত অপরাধ চক্র, এর সাথে জড়িত নেপথ্যের গডফাদারদের তালিকা এবং তথাকথিত সাংবাদিকদের মুখোশ উন্মোচন করা হবে আগামী পর্বে। (চলবে…)



মন্তব্য