![]()
বিশেষ প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নে সরকারি খাল খনন কর্মসূচিতে অনিয়ম ও মাটি বিক্রির সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন। বুধবার (১৭ জুন) দুপুর ১২টায় উপজেলার ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের ওই সরকারি খাল খনন প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন ও তদন্ত করেছেন নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। এর আগে, ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড থেকে কালিপুরা পর্যন্ত ২ কিলোমিটার দীর্ঘ, ১২ ফুট চওড়া এবং ৭ ফুট গভীরতার এই সরকারি খাল খনন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে খালের খননকৃত মাটি গোপনে বিক্রি করে দিচ্ছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা ও ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের সভাপতি সফর আলী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, খাল খননের নিয়ম মেনে কাজ করা হচ্ছে না। সবচেয়ে বড় অনিয়ম হচ্ছে খালের মাটি নিয়ে। ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সফর আলী সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে খালের মাটি আশেপাশের বিভিন্ন মানুষের কাছে গোপনে বিক্রি করে দিচ্ছেন। এতে সরকারের উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে এবং কতিপয় ব্যক্তি লাভবান হচ্ছে। সরকারি খালের মাটি এভাবে ব্যক্তিগত স্বার্থে বিক্রি করা সম্পূর্ণ বেআইনি উল্লেখ করে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসকের (ডিসি) হস্তক্ষেপ কামনা করেছিলেন স্থানীয় গ্রামবাসীরা। এই সংক্রান্ত সংবাদ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পরপরই বুধবার দুপুরে তদন্তে নামে উপজেলা প্রশাসন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা সফর আলীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সরেজমিনে তদন্তের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, খালের মাটি কাটা ও বিক্রির অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে নিয়মের ব্যত্যয় বা কোনো ধরনের দুর্নীতির প্রমাণ মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এলাকার সচেতন মহল প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে আশা প্রকাশ করেছেন যে, জনকল্যাণমূলক এই প্রকল্পের স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে দোষীদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনা হবে।



মন্তব্য