![]()
জাবি প্রতিনিধি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ৪৯ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী আহনাফ তাহমিদ খান রাইয়ান, তার মা এবং ভাগ্নের আকষ্মিক ও অকাল প্রয়াণে দোয়া ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (৫ এপ্রিল) সকাল এগারোটায় অর্থনীতি বিভাগের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ১৩০ নং গ্যালারিতে বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলামনাই সদস্যদের উপস্থিতিতে এ দোয়া ও স্মরণসভা অনুষ্টিত হয়েছে।
উক্ত স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, অধ্যাপক শরমিন্দ নীলোর্মি, অধ্যাপক ড. আয়শা সিদ্দিকা, অধ্যাপক লায়লা হাসিন, অধ্যাপক ড. আমীন মাসুদ আলী, অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান, সহোযোগী অধ্যাপক মালা রানী দাস, সৈয়দা সুমাইয়া হাবীব এবং বিভাগের সকল ব্যাচের শিক্ষার্থীবৃন্দ।
স্মরণসভায় বিভাগের ৫১ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী লিয়ন মাহমুদ তীব্র বলেন, রাইয়ান ভাই অত্যন্ত ভালো মনের একজন মানুষ ছিলেন,ভাইয়ের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। এমন সাংগঠনিক দক্ষতার মানুষ খুব কমই আছে। যে কোনো প্রোগ্রাম নামানোর ক্ষেত্রে কখনো আর্থিকভাবে ঝামেলায় থাকলে নিজের পকেট থেকে টাকা দিয়ে কাজ করতেন ভাই।রাইয়ান ভাইয়ের এভাবে চলে যাওয়াটা মেনে নিতে অনেক কষ্ট হচ্ছে, এই ক্ষতি অপূরণীয়। মহান আল্লাহ তায়ালা রাইয়ান ভাইকে তার মা এবং ভাগ্নেকে জান্নাতবাসী করুক সেই দোয়াই করি।
স্মরণসভায় বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, আমার সন্তানতুল্য ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাইয়ানের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক, ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। সে বিভাগের সবার সঙ্গে খুবই ঘনিষ্ঠ ছিল। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ব্যাচের কার্যক্রমে সে সক্রিয়ভাবে অংশ নিত। তার সঙ্গে আমাদের অসংখ্য স্মৃতি জড়িয়ে আছে। কিছুদিন আগেই তার বাবা মারা গেছেন। এখন সে এবং তার মায়ের মৃত্যু পরিবারের জন্য আরও বড় আঘাত। আমরা সবাই গভীরভাবে শোকাহত। রাইয়ান ছিলেন একজন দক্ষ বিতার্কিক, স্কুলজীবন থেকেই জাতীয় পর্যায়ে বিতর্কে অংশ নিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়েও যুক্ত ছিলেন বিতর্কচর্চায়। যুক্তি, বুদ্ধি আর সচেতনতার আলো ছড়ানোই ছিল তার স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্ন থেমে গেল তার এই অকাল মৃত্যুতে। আমরা তার জন্য দোয়া করি আল্লাহ যেন রাইয়ান ও তার পরিবারের সদস্যদের জান্নাত নসিব করেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধারন করার তৌফিক দান করেন।
প্রসঙ্গত, এর আগে (২৫ মার্চ) রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে সংঘটিত মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনায় মায়ের পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) অর্থনীতি বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আহনাফ তাহমিদ খান রাইয়ান, তার ভাগ্নের মরদেহ উদ্ধার ও শনাক্ত করা হয়েছিল।



মন্তব্য