![]()
আশিকুর রহমান, জবি প্রতিনিধি
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব গঠনকে ঘিরে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নতুন কমিটিও ঘোষণা করা হতে পারে।
এরই মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব নিয়ে ক্যাম্পাসে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে বর্তমান কমিটি ভেঙে নতুন নেতৃত্ব আনার গুঞ্জনে সরগরম চায়ের দোকান থেকে শুরু করে দলীয় আড্ডা সবখানেই চলছে হিসাব-নিকাশ।
সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জাফর আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান রুমি, এস এম শাহরিয়ার হোসেন, সাখাওয়াতুল ইসলাম খান পরাগ ও সুমন সরদার। এ ছাড়াও যুগ্ম আহ্বায়ক মাহামুদুল হাসান খান , রবিউল আওয়াল ও রাসেল মিয়ার নামও শোনা যাচ্ছে।
দলীয় সূত্র বলছে, আলোচনায় থাকা নেতাদের মধ্যে জাফর আহমেদ, শাহরিয়ার হোসেন, সাখাওয়াতুল ইসলাম খান পরাগ ও মোস্তাফিজুর রহমান রুমি এই চারজনই শীর্ষ নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে আছেন। দীর্ঘদিন ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় থাকা, বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমে ভূমিকার কারণে তাঁরা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন।
বর্তমান কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জাফর আহমেদ ত্যাগী ও সাহসী নেতা হিসেবে পরিচিত। দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে তিনি একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছেন। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের পরবর্তী সময়ে আন্দোলনে অংশ নিয়ে গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় আড়াই মাস কারাভোগ করেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাঁর সক্রিয় ভূমিকার কথাও উল্লেখ করছেন নেতাকর্মীরা।
শরীয়তপুরের সখিপুরের বাসিন্দা শাহরিয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের রাজনীতি ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে যুক্ত। নেতাকর্মীদের ভাষ্য,শিক্ষার্থীদের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি ক্যাম্পাসে পরিচিত মুখ। বিভিন্ন সময়ে মামলায় জড়িয়ে কারাভোগও করেছেন তিনি। এছাড়াও জুলাই আন্দোলনে সামনে সারি থেকে নেতৃত্ব দেন তিনি।
ময়মনসিংহের সাখাওয়াতুল ইসলাম খান পরাগকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে জনপ্রিয় ও সক্রিয় সংগঠক হিসেবে দেখা হয়। আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিতে গিয়ে তিনি একাধিকবার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে জানা যায়। দলীয় আদর্শে অটুট থেকে সামনের সারিতে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে তিনিও আলোচনায় রয়েছেন।
অন্যদিকে পটুয়াখালীর মোস্তাফিজুর রহমান রুমি ছাত্রদলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে একাধিকবার গ্রেপ্তার ও কারাভোগ করেছেন। ২০১১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তাঁকে আটক করা হয়। দলীয় দুর্দিনে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তাঁকেও সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় রাখা হচ্ছে।
এ ছাড়া মাহামুদুল হাসান খান , রবিউল আওয়াল ও রাসেল মিয়া পূর্ববর্তী কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ক্যাম্পাসে সংগঠনের কার্যক্রম সচল রাখা এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার ক্ষেত্রে তাঁদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করছেন নেতাকর্মীরা।
সব মিলিয়ে, জবি ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব কারা পাচ্ছেন, তা নিয়ে নেতা-কর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে কৌতূহল বাড়ছে। তৃণমূলের প্রত্যাশা, আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাদের হাতেই আগামীর নেতৃত্ব তুলে দেওয়া হবে।



মন্তব্য