নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুমিল্লা নগরীর ডুমুরিয়া চাঁনপুরে লেক ভিউ পার্কের উল্টো পাশে প্রায় ২০ কোটি টাকার সরকারি খাসজমি দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছিল। এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর জেলা প্রশাসক তৎকালীন সময়ে কাজ বন্ধ করে দেন এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ সরকারি জমি উদ্ধারের কার্যক্রম শুরু করেন। তবে দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও সেই কার্যক্রমে আর তেমন অগ্রগতি দেখা যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের।
ইতিমধ্যে গত বুধবার (২৭ আগস্ট) রাত থেকে ওই এলাকায় আবারও জমি ভরাটের কাজ শুরু করেছে ভূমিদস্যুরা। আইন-প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে খাসজমিতে অবৈধভাবে দখলদারিত্ব চালিয়ে যাচ্ছে তারা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, উক্ত এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৪৩ দাগে ৪৩ ফুট রাস্তা এবং সড়কের ৪৫ দাগে ৪৫ ফুট রাস্তার জায়গা থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে রাস্তা আছে মাত্র ২০ ফুট। বাকি অংশ স্থানীয় প্রভাবশালীরা দখল করে সেখানে মার্কেট, বাড়িঘরসহ নানা স্থাপনা গড়ে তুলেছেন। যেন সরকারি জমি নয়, বাপ-দাদার রেখে যাওয়া ব্যক্তিগত সম্পত্তি!
লেক ভিউ পার্কের উল্টো পাশের জায়গাটি মূলত নাল ছিল। পরে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে দলিল তৈরি করে আওয়ামী দোসর ভূমিদস্যুরা মালিকানা দাবি করছেন। জেলা প্রশাসক মামলা করার পরও তারা নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের কিছু মহলকে ম্যানেজ করেই ভূমিদস্যুরা এতদূর এগোতে পেরেছে।
অভিযোগ রয়েছে, এ জমি দখলের মূল হোতারা হলেন কুমিল্লার সাবেক এমপি হাজী আ ক ম বাহাউদ্দীন বাহারের অনুসারী রাজা মিয়ার পুত্র আব্দুল সালাম, আব্দুর রাজ্জাক ও জাহাঙ্গীর আলমসহ কয়েকজন প্রভাবশালী। স্থানীয় সূত্র জানায়, তাদের সঙ্গে কিছু বিএনপি নেতাও আর্থিক স্বার্থে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছেন। ফলে আওয়ামী দোসর আর কথিত বিএনপি নেতাদের যৌথ উদ্যোগে আবারও খাসজমি ভরাট করে হাউজিং প্রকল্প নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এ নিয়ে এলাকাবাসীর প্রশ্ন—সরকারি জমি উদ্ধারে প্রশাসনের ঘোষিত উদ্যোগ কোথায় থেমে গেল? কেন এখনও আইনের তোয়াক্কা না করে ভূমিদস্যুরা অবৈধভাবে খাসজমি দখল করে যাচ্ছে?
মন্তব্য