![]()
রাবি প্রতিনিধি
১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবারের মতো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের (রুয়া) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতি হিসবে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মো. রফিকুল ইসলাম খান সহ সর্বমোট ৫১ টি পদের বিপরীতে ৫০ জন জামায়পন্থীরা জয়লাভ করেছে বলে জানা গেছে। সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন অধ্যাপক ড. মো. নিজাম উদ্দীন।
বিএনপিপন্থীদের নির্বাচন বর্জনের ফলে প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ভোটগ্রহণের পূর্বেই ৫১টি পদের মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ২৭টি পদে জয়ী ঘোষণা করা হয় জামায়াতপন্থী হিসেবে পরিচিত প্রার্থীদের।
বাকি ২৪টি পদে শনিবার (২৬ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
ভোট গণনা শেষে এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বাকি ২৪টি পদের ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এফ নজরুল ইসলাম খান।I এতে ২৪টির ২৩টি পদেই জামায়াতপন্থীরা নির্বাচিত হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ নির্বাচিত হয়েছেন- সহসভাপতি (সংরক্ষিত মহিলা) সাবরীনা শারমিন, কোষাধ্যক্ষ জে এ এম সকিলউর রহমান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক (সংরক্ষিত মহিলা) ড. ইসমত আরা বেগম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইমাজ উদ্দিন, যুগ্ম-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কবির উদ্দীন, শিক্ষা ও পাঠাগার সম্পাদক ড. মো. নাসির উদ্দিন, যুগ্ম-শিক্ষা ও পাঠাগার সম্পাদক মো. শহীদুল ইসলাম, যুগ্ম-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. মো. নূরুল ইসলাম, যুগ্ম-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবু সালেহ মো. আব্দুল্লাহ।
যুগ্ম-প্রচার, প্রকাশনা ও জনসংযোগ সম্পাদক মোহা. আশরাফুল আলম ইমন, যুগ্ম-ক্রীড়া সম্পাদক রুকন উদ্দিন মো. রওশন জামির খান, দফতর সম্পাদক কাজী মামুন রানা, যুগ্ম-দফতর সম্পাদক মো. মোজাহিদ হাসান, আইটি সম্পাদক মো. মাসুদ রানা, যুগ্ম-আইটি সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান মুন্না, আইন সম্পাদক মুহম্মদ শাহাদাৎ হোসাইন, মুখ্য-কল্যাণ ও উন্নয়ন সম্পাদক সাব্বির আহমেদ তাফসীর, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম কামরুজ্জামান, যুগ্ম-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মো. ফরহাদ আলম।
এ ছাড়া সংরক্ষিত মহিলা আসনে নির্বাহী সদস্য হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন ফাতিমা খাতুন, সখিনা খাতুন, ড. সিরাজুম মুনীরা, শাহানারা বেগম ও শারমিন আকতার।
ভোটের মাধ্যমে বাকি ২৪টির ২৩টি পদের নির্বাচিত প্রার্থীরা হলেন- সহ-সভাপতি মোঃ মতিউর রহমান আকন্দ ও মো. কেরামত আলী, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক দেলাওয়ার হোসেন ও মো. কামরুল আহসান, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মো. শামসুজ্জোহা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ড. মো. হারুন-অর রশিদ, ক্রীড়া সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হক এবং কল্যাণ ও উন্নয়ন সম্পাদক ড. শাহ্ হোসাইন আহমদ মেহদী।
নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন- মো. রফিকুল ইসলাম, মো. রেজাউল করিম, মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, মো. নূরুল ইসলাম, মো. আশফাকুর রহমান, আ.স.ম. খায়েরুজ্জামান, এম উমার আলী, মো. আবু তালেব, মো. মাহবুবুল আহসান, মো. আব্দুল বাছেদ, মো. মহিউদ্দীন, মো. শফিকুল ইসলাম, মোহা. লতিফুর রহমান, মো. আবদুল খালেক এবং মো. গোলাম রছুল।
এছাড়া জামায়াতপন্থীদের বাইরে যুগ্ম-আইন সম্পাদক হিসেবে মো. মিল্টন হোসেন নির্বাচিত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
ফল ঘোষণা শেষে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের সামনে রুয়ার নতুন সভাপতি মা. রফিকুল ইসলাম খান সুষ্ঠভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য নির্বাচন কমিশন ও অ্যাডহক কমিটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। এসময় তিনি গঠনতন্ত্র মেনে রুয়াকে শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এদিকে রুয়া নির্বাচনের পূর্বেই তা বর্জন করে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন সংগঠনটির বিএনপিপন্থী জীবন সদস্যবৃন্দ। তাদের অভিযোগ, নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়ায় রুয়া’র গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করা হয়েছে।
তারা বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্ত এবং পুরনো সদস্যদের বাদ দিয়ে ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে।
গঠনতন্ত্র লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রুয়া নির্বাচন কমিশনের সভাপতি সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর একটি কার্যকর রুয়া গঠনের পথে আমরা এগোচ্ছি। নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশেই হচ্ছে। সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ ডাহা মিথ্যা; কোথায় লঙ্ঘন হয়েছে, তা যারা অভিযোগ করছেন, তারাই প্রমাণ করুক।’



মন্তব্য