সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬
 

ছাত্রলীগের নেতাকে আটক করে পুলিশে দিলো জবি ছাত্রদল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ জুলাই ২০২৫

---

আশিকুর রহমান, জবি প্রতিনিধি

নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদল।


আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ থেকে তাকে আটক করা হয়।


আটককৃত ছাত্রলীগ নেতার নাম শরিফুল ইসলাম সাজিদ। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং বিভাগের ছাত্রলীগের সেক্রেটারি। সাজিদের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরের ব্যাংকপাড়া এলাকায়।

জানা যায়, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ওই নেতা বিভাগে রিটেক পরীক্ষার জন্য এসেছিলেন। এসময় ছাত্রদলের নেতারা খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে তাকে আটক করেন। এসময় তার সঙ্গে ছাত্রদল নেতাদের ধস্তাধস্তি হয়।

ছাত্রদলের আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান খাঁন বলেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট সময়ে তারা আমাদের উপর নির্মম জুলুম-নির্যাতন করেছে। আমাদের বিল্ডিংয়ের আন্ডারগ্রাউন্ডে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন করেছে। তার উপযুক্ত বিচার নিশ্চিত করতে হবে প্রশাসনকে।”


জবি ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন বলেন, যারা অত্যাচারী এবং ফ্যাসিস্ট ছাত্রলীগ তাদের ব্যপারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে জিরো টলারেন্স।

আমরা মৌলিক মানবাধিকার রক্ষার স্বার্থেই ফ্যাসিস্ট বিরোধী।


জবি ছাত্র দলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, এরা জুলাই আন্দোলনে ছাত্র জনতার উপর হামলা চালায়। নির্বিচারে মা বোনদের উপর আঘাত করেছে। এরপরেও বিন্দু মাত্র অনুশোচনা বোধ নেই। এরা দেশের শত্রু। এদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

তিনি বলেন, আজ পরিকল্পনা করেই ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা শরিফুল ইসলাম সাজিদ। গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘সাজিদ ইসলাম’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে পোস্ট করে লেখা হয়— “কাল থেকে একদল তরুণের প্রবেশ হবে যাদের হারানোর কিছুই নেই, না একটা গোঁছানো রুম, না সম্মান, না বন্ধু, না কোনো আপনজন, না সার্টিফিকেট। কিছুই নাই, নাই ভয়, নাই লজ্জা, নাই আবেগ, নাই দরদ। তারা হবে নির্ভিক, তারা হবে ভয়ংকর সুন্দর!!!”


তবে এই পোস্ট সম্পর্কে সাজিদ জানান, “আইডিটি আমার নয়। আমি এমন কোনো পোস্ট করিনি। আগামীকাল আমার বিয়ে, তাই আগামী সপ্তাহে আসতে পারব না বলে আজ এসেছি। আমি এসেছিলাম রিটেক পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে।”


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. তাজাম্মুল হক বলেন, ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মীরা ছাত্রলীগের একাউন্টিং বিভাগের সেক্রেটারীকে ধরে নিয়ে আমাদের প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসে। তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও মামলা থাকায় আমরা তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করি।


এবিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায় নি।

 

মন্তব্য

সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর

Developed By: Dotsilicon