![]()
বিশেষ প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় তিন ফসলি কৃষি জমি ধ্বংস, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং সরকারি খাস জমি দখলের মহোৎসব চলছে। স্থানীয় এলাকাবাসী জেলা প্রশাসনকে এক সপ্তাহ যাবত লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ দিলেও কোনো রকম প্রতিকার পাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রশাসনের এই নীরব ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নবীনগরের বাঁশ বাজার এলাকায় সুফিয়া এতিমখানা সংলগ্ন একটি করাত মিলের দুই পাশে সরকারি খাস জমি অবৈধভাবে দখল করছে আল আমিন ও তার সহযোগীরা। অন্যদিকে, উপজেলার ইব্রাহিমপুর এলাকায় ওমান প্রবাসী বাবুল মিয়ার বাড়ির দক্ষিণ পাশে উর্বর কৃষি জমিতে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে একটি ড্রেজার মেশিন চালানো হচ্ছে। স্থানীয় বিএনপি নেতা মোমেনের নেতৃত্বে এই অবৈধ ড্রেজার ব্যবসা চলছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
অভিযোগে আরও জানা যায়, বাঁশ বাজার ব্রিজ সংলগ্ন নদী এলাকায় প্রতিদিন ১৫ টনি বড় বড় ট্রলারে করে অবৈধ বালু আনা হচ্ছে। সেই বালু দিয়ে পুরো নবীনগরের শত শত একর কৃষি জমি, ডোবা ও পুকুর দেদারসে ভরাট করা হচ্ছে। এর ফলে এই অঞ্চলের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও কৃষি ব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে পড়েছে।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী অত্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) মিস শারমিন জাহান যখন দায়িত্বে ছিলেন, তখন পুরো জেলায় এই ধরনের অবৈধ ড্রেজার ও বালু উত্তোলন কঠোর হস্তে বন্ধ রাখা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান জেলা প্রশাসনকে গত এক সপ্তাহ যাবত বিভিন্ন মাধ্যমে এই অনিয়মের কথা স্পষ্টভাবে জানানো সত্ত্বেও তিনি এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি।
দেশের ঐতিহ্যবাহী ফসলি জমি রক্ষা এবং সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করতে ক্ষুব্ধ স্থানীয় সচেতন মহল ও এলাকাবাসী অনতিবিলম্বে সরকারের ভূমি মন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ এবং দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।



মন্তব্য