শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
 

পাবনায় ব্যাংক হামলার পর সাংবাদিক নির্যাতনের অভিযোগ বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত লোকমান মেম্বারের বিরুদ্ধে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬

---

নিজস্ব প্রতিনিধি, পাবনা:
পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার ফৈলজানা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ও বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা লোকমান হোসেনের বিরুদ্ধে এবার দুই সংবাদকর্মীকে ডেকে নিয়ে মারধর, মোবাইল ফোন ও মোটরসাইকেল কেড়ে নেওয়া এবং প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী দুই সংবাদকর্মী হলেন রাসেল আহমেদ ও মোহাম্মদ আলী। তাঁদের অভিযোগ, গত ৮ আগস্ট সংবাদ-সংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার কথা বলে মোবাইল ফোনে তাঁদের ডেকে নেওয়া হয়। নির্ধারিত স্থানে পৌঁছানোর পর লোকমান হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা তাঁদের ওপর হামলা ও নির্যাতন চালান। একপর্যায়ে তাঁদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও মোটরসাইকেল কেড়ে নেওয়া হয়। পরে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাঁদের কান ধরানো হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার ঘটনায় দুই সংবাদকর্মী আহত হন। পরে তাঁরা স্থানীয় হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেন। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। ভুক্তভোগী দুই সংবাদকর্মীও এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

এর আগে গত ৩১ জুলাই পাবনার চাটমোহর উপজেলার ফৈলজানা শাখার রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে লোকমান হোসেনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ঋণ নবায়ন না করায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ব্যাংক শাখায় গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালান। এ সময় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়। ঘটনায় শাখা ব্যবস্থাপক শামসুজ্জামান নয়ন আহত হন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লোকমান হোসেন ফৈলজানা ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্যাংকে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগের পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে এলাকায় আলোচনা রয়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর অভিযোগ, লোকমান হোসেনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সাংবাদিক নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে লোকমান হোসেনের বক্তব্য জানতে তাঁর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। পরে মুঠোফোনে খুদে বার্তা (এসএমএস) পাঠিয়েও তাঁর বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তিনি কোনো সাড়া দেননি।

দুই সংবাদকর্মীকে মারধরের প্রতিবাদ
সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদের (এসএসপি) কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি গোলাম ফারুক মজনু, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবু আবিদ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ কামরুল ইসলাম এক বিবৃতিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানান। তাঁরা বলেন, সংবাদকর্মীদের ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁরা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

মন্তব্য

সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর

Developed By: Dotsilicon