![]()
লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি:
নাটোরের লালপুর উপজেলায় পাট কাটার মৌসুম ঘিরে গ্রামবাংলার মাঠজুড়ে দেখা দিয়েছে কর্মচাঞ্চল্য। ভোরের আলো ফুটতেই কৃষকেরা নেমে পড়ছেন ক্ষেতে। কেউ পাট কাটছেন, কেউ আঁটি বাঁধছেন। আবার কোথাও পাট জাগ দেওয়ার জন্য কাটা পাট পানিতে ডুবিয়ে রাখা হচ্ছে। জাগ দেওয়া পাট থেকে আঁশ ছাড়িয়ে রোদে শুকানোর দৃশ্যও চোখে পড়ছে। কয়েক মাসের পরিশ্রমের পর এখন ‘সোনালি আঁশ’ ঘরে তোলার ব্যস্ততায় মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
উপজেলার দুড়দুড়িয়া, বিলমাড়িয়া, আড়বাব ও ওয়ালিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। অনুকূল আবহাওয়া ও রোগবালাই কম থাকায় এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। পাশাপাশি বাজারে সন্তোষজনক দাম পাওয়ায় তাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।বর্তমানে মানভেদে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কৃষকদের হিসাবে, প্রতি বিঘা জমিতে পাট চাষে খরচ হয়েছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। পাট ও পাটকাঠি বিক্রি করে আয় হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। ফলে খরচ বাদ দিয়েও ভালো লাভের আশা করছেন তারা। সাঁইপাড়া গ্রামের কৃষক সাব্বির হোসেন জানান, গত কয়েক বছরের মতো এবারও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পাটের ফলন ভালো হয়েছে। রোগবালাই কম থাকায় চাষে তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। পাশাপাশি বাজারদরও সন্তোষজনক।
পাট ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হক বলেন, “মানভেদে তিনি প্রতি মণ পাট সাড়ে তিন থেকে চার হাজার টাকা দরে কিনছেন। বর্তমান বাজারদর স্থিতিশীল থাকলে কৃষকেরা আরও লাভবান হবেন বলে আশা করছেন তিনি।”
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে লালপুরের ১০টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা ও পদ্মার চরাঞ্চল মিলিয়ে মোট ৮ হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার পাটের আবাদ বেড়েছে ১ হাজার ৯৫ হেক্টর। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৯১ বেল। এছাড়া সরকারি প্রণোদনার আওতায় ১ হাজার কৃষকের মধ্যে উন্নতমানের পাটবীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় বলেন, “কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও মাঠপর্যায়ে তদারকির ফলে এ বছর পাটের ফলন ভালো হয়েছে। ভালো ফলন ও সন্তোষজনক বাজারদরে এ বছর পাট চাষে লাভের আশা করছেন লালপুরের কৃষকেরা।”



মন্তব্য