![]()
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বগুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতির মতো স্পর্শকাতর অভিযোগ ওঠার পরও দৃশ্যমান কোনো তদন্ত অগ্রগতি না থাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক আদেশ ও বেঁধে দেওয়া সময়সীমাকে সরাসরি তোয়াক্কা না করে উপজেলা শিক্ষা অফিস কর্তৃক তদন্ত প্রক্রিয়া ঝুলিয়ে রাখার পেছনে অভিযুক্ত শিক্ষককে অসাধু উপায়ে বাঁচানোর অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ তীব্র রূপ নিয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত ৯ জুলাই মোছাঃ সুরজাহান আক্তার নামক এক নারী অভিভাবক শিক্ষক জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে দাপ্তরিক দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে ৫ পৃষ্ঠার সুনির্দিষ্ট প্রমাণাদিসহ লিখিত আবেদন দাখিল করেন। বিষয়টি জাতীয় দৈনিক ‘সকালবেলা’ পত্রিকায় ফলাও করে প্রকাশিত হলে প্রশাসনিক স্তরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১২ জুলাই সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহন লাল দাস এক দাপ্তরিক স্মারকপত্রের (স্মারক নং- ৩৮.৪৬.৯০০০.০০০.২৭.০০১.২৬.৮১৮) মাধ্যমে দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক আগামী ২২ জুলাইয়ের মধ্যে স্পষ্ট মতামতসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন জমার কঠোর নির্দেশ প্রদান করেন। আদেশের অনুলিপি সিলেট বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষার বিভাগীয় উপ-পরিচালককেও অবগতির জন্য পাঠানো হয়েছিল।
জেলা শিক্ষা অফিসারের কার্যালয় থেকে গত ২২ জুলাইয়ের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দাখিলের স্পষ্ট ও বাধ্যতামূলক সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া সত্ত্বেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তদন্ত কর্মকর্তা তথা উপজেলা শিক্ষা অফিসের এই রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তা এবং প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলা পুরো প্রশাসনিক জবাবদিহিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। নথিপত্রে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণাদি সংরক্ষিত থাকা সত্ত্বেও নির্ধারিত সময়ে রিপোর্ট না পাঠানো অভিযুক্ত শিক্ষকের প্রতি অনৈতিক পক্ষপাতিত্ব এবং অপরাধ ঢেকে রাখার হীন মানসিকতারই স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।
এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে দোয়ারাবাজার উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) এনামুল হক মোল্লা তদন্তে বিলম্বের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “এই সপ্তাহের মধ্যে আমরা নোটিশ করব এবং আগামী সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত কাজ শেষ করে প্রতিবেদন জেলা শিক্ষা অফিসে জমা দেব। আমি একা সব কিছু সামলাচ্ছি, যার কারণে তদন্ত প্রক্রিয়ায় কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।”
তবে অভিযোগকারী ও স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একটি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুষ্ঠু প্রশাসনিক পরিবেশ ও সুশাসন বজায় রাখতে এই ধরনের জালিয়াতির কঠোর বিচার আবশ্যক। নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পরও প্রশাসনিক অজুহাতে কালক্ষেপণ করে অপরাধীকে নিষ্কৃতি দেওয়ার যে চেষ্টা চলছে, তা অত্যন্ত নজিরবিহীন। অবিলম্বে সকল প্রকার অবৈধ প্রভাব ও কালক্ষেপণ বন্ধ করে অপরাধী শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্নপূর্বক কঠোর বিভাগীয় ও আইনি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী অভিভাবক ও ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।



মন্তব্য