বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬
 

৮০ হাজার টাকার চুক্তিতে ইয়াবা পাচারকালে কর্ণফুলীর মইজ্জারটেকে ১৬,৬০০ পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারি আটক

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ আগস্ট ২০২৬

---
সাইফুল ইসলাম, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জ্যারটেক মোড় এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৬ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার এবং তিনজন কথিত মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে কর্ণফুলী থানা পুলিশ। ৪ অগাস্ট কর্ণফুলী থানাধীন মইজ্জ্যারটেক মোড়স্থ পুলিশ চেকপোস্টে নিয়মিত তল্লাশি অভিযানের সময় এই সাফল্য অর্জন করে পুলিশ। অভিযানে আটক তিনজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ৮০ হাজার টাকার চুক্তিতে তারা ইয়াবার চালানটি পাচার করছিলেন। চুক্তি অনুযায়ী কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামের নতুন ব্রিজ গোলচত্বর পর্যন্ত ইয়াবার চালান পৌঁছে দিতে পারলে তারা ৮০ হাজার টাকা পারিশ্রমিক পেতেন। তবে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই কর্ণফুলীর মইজ্জারটেক পুলিশ চেকপোস্টে পুলিশের অভিযানে তারা আটক হন তারা।

পুলিশ জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মইজ্জ্যারটেক মোড়ে স্থাপিত চেকপোস্টে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে মোট ১৬ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকেই তিনজনকে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার বাসিন্দা মো. ফারুক (৩২), তাঁর স্ত্রী ছকিনা আক্তার সুমি (৩৯) এবং রামু উপজেলার বাসিন্দা রিনা আক্তার (৩০)। বর্তমানে তারা কক্সবাজার সদর উপজেলার টেকপাড়া এলাকার জনতা সড়ক রোডে ভাড়াবাসায় বসবাস করছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। তবে তাদের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং এই চালান কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, সে বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

কর্ণফুলী থানা পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করে থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় কর্ণফুলী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০ (গ) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলা নম্বর-০৭, তারিখ ৪ আগস্ট ২০২৬। পরে গ্রেপ্তার তিনজনকে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

কর্ণফুলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। মাদক পাচার ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত চলছে।”

পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, কর্ণফুলী এলাকা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ হওয়ায় বিভিন্ন সময়ে মাদক পাচারকারীরা এই রুট ব্যবহার করার চেষ্টা করে। এ কারণে চেকপোস্টে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজন যানবাহন ও ব্যক্তিদের নিয়মিত তল্লাশি করা হচ্ছে।

মন্তব্য

সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর

Developed By: Dotsilicon