![]()
বিশেষ প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডে রাতের আঁধারে ফসলি জমি ও পানি চলাচলের ড্রেন ভরাট করে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কার্যক্রম অবশেষে বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসকের কঠোর নির্দেশনার প্রেক্ষিতে গতকাল রাত ৯টায় স্থানীয় প্রশাসন এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এর ফলে উপজেলার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ও পানি নিষ্কাশনের ড্রেন জবরদখল করে বালু ভরাটের মহোৎসব সাময়িকভাবে বন্ধ হয়েছে। তবে অভিযানের সময় অবৈধ বালু ব্যবসায়ী ও কথিত সিন্ডিকেট প্রধান, স্থানীয় বিতর্কিত আল আমিন মেম্বারের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় সাধারণ এলাকাবাসীর মনে ক্ষোভ ও ধোঁয়াশা কাটেনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের সরকারি খাস জমি, সাধারণ কৃষকদের আবাদি ফসলি জমি এবং এলাকার পানি চলাচলের একমাত্র ড্রেনটি গ্রাস করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ড্রেজার (বোমা মেশিন) বসিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছিল একটি প্রভাবশালী চক্র। স্থানীয় বিতর্কিত আল আমিন মেম্বার ও তার শক্তিশালী সিন্ডিকেট রাজনৈতিক প্রভাব খাঁটিয়ে এবং প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাতের আঁধারে এই অবৈধ বালু ভরাট ও মাটি বাণিজ্যের রাজত্ব গড়ে তোলে। ফসলি জমি ও পানি চলাচলের ড্রেন বন্ধ করে এভাবে নির্বিচারে বালু উত্তোলনের ফলে ইব্রাহিমপুর সংলগ্ন এলাকার বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে, জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে এবং পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠলে টনক নড়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের।এরই ধারাবাহিকতায়, জেলা প্রশাসকের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ অনুযায়ী গতকাল রাত ৯টার দিকে উপজেলা প্রশাসন ও মোবাইল কোর্ট ওই এলাকায় আকস্মিক অভিযান চালায়। অভিযানে আল আমিন মেম্বারের বালু ভরাট ও ড্রেন বন্ধ করার কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং ঘটনাস্থলেই ড্রেজারের পাইপ ও আনুষঙ্গিক বিপুল পরিমাণ যন্ত্রপাতি জব্দ ও বিনষ্ট করা হয়।জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে কৃষিজমি ও ড্রেন রক্ষা পাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করলেও মূল হোতা পার পেয়ে যাওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী কৃষক বলেন, “ডিসি স্যারের নির্দেশে আল আমিন মেম্বারের বালু ভরাট ও ড্রেজার বন্ধ হওয়ায় আমাদের জমি ও ড্রেনগুলো রক্ষা পেল। কিন্তু মূল অপরাধী সাজা না পেয়ে বহাল তবিয়তে আছেন। প্রশাসন চলে যাওয়ার পর এই সিন্ডিকেট আবারও ড্রেজার চালু করে জমি দখল করতে পারে।”আইনজীবীদের মতে, দেশের প্রচলিত ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০’ অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া কৃষিজমি বা নদী থেকে বালু ও মাটি উত্তোলন করলে সর্বনিম্ন ১ থেকে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার স্পষ্ট বিধান রয়েছে। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে প্রায়শই মূল হোতারা ঘটনাস্থলে না থাকায় এই আইনের শতভাগ প্রতিফলন ঘটানো সম্ভব হয় না।এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিবেশ, পানি চলাচলের পথ ও কৃষিজমি রক্ষায় এই ধরণের অভিযান এবং জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে। অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে মূল হোতাদের হাতেনাতে না পাওয়ায় তাৎক্ষণিক সাজা দেওয়া না গেলেও, এই অবৈধ সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



মন্তব্য