![]()
ঝালকাঠি প্রতিনিধি
ঝালকাঠি সদর থানার এক এএসআইকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ফাঁসানোর চেষ্টা এবং এক ব্যক্তিকে দিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করানোর অভিযোগ উঠেছে সাংবাদিক পরিচয়দানকারী সোহাগ মোল্লা ওরফে মোল্লা শাওনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতারণা ও মিথ্যা মামলা সংক্রান্ত অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ঝালকাঠি সদর থানায় মামলা হয়েছে। থানা সূত্র ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে ঝালকাঠি সদর উপজেলার দেউলকাঠি গ্রামের মহসিন হাওলাদারের ছেলে আজাদ হোসেনের নামে ব্যাংক-সংক্রান্ত একটি মামলার ওয়ারেন্ট থানায় আসে। পরে এএসআই মোহিত দেউলকাঠি এলাকায় গিয়ে আজাদ হোসেনের বিষয়ে খোঁজ নেন। স্থানীয়দের কাছ থেকে তার পরিচয় সম্পর্কে তথ্য নেওয়ার পর পুলিশ জানতে পারে, ওয়ারেন্টে উল্লেখিত ব্যক্তির পিতার নামের সঙ্গে স্থানীয়ভাবে পরিচিত তথ্যের গরমিল রয়েছে। এ সময় রিকল জমা দেওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ থানায় ফিরে আসে। অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি জানতে পেরে সোহাগ মোল্লা ওরফে মোল্লা শাওন আজাদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের কথা বলে এবং ব্যাংক-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে আজাদের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে পুলিশকে বিপাকে ফেলতে আজাদকে দিয়ে এএসআই মোহিতের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করানোর চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি আজাদকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসার কাগজপত্র সংগ্রহ এবং পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পানিতে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনা সাজানোর চেষ্টা করা হয় বলেও মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, পুলিশকে ফাঁসাতে আজাদকে দিয়ে আদালতে অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এ সময় আদালত চত্বরে থাকা এক পুলিশ সদস্য বিষয়টি জানতে পেরে আজাদকে থানায় নিয়ে আসেন। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদে আজাদ পুলিশকে জানান, এসব কথা বলার জন্য তাকে সোহাগ মোল্লা ওরফে মোল্লা শাওন শিখিয়ে দিয়েছেন। পরে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে আজাদ হোসেন বাদী হয়ে সোহাগ মোল্লা ওরফে মোল্লা শাওনের বিরুদ্ধে ঝালকাঠি সদর থানায় দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ২১১ ও ৫০৬ ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলার নম্বর ৩৬; তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ঝালকাঠি সদর থানার অফিসার ইনচার্জ সাংবাদিকদের জানান, দেউলকাঠি গ্রামের আজাদ খান বাদী হয়ে সোহাগ মোল্লা ওরফে মোল্লা শাওনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন। মামলাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে, সোহাগ মোল্লা ওরফে মোল্লা শাওনের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ ও মামলা থাকার দাবি করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তবে এসব অভিযোগের সবগুলোর স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় কামাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, শাওন মোল্লার বিরুদ্ধে প্রতারণা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ করেন শহরের চাদকাঠি এলাকার রফিক হোসেনও। তবে তাদের অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সোহাগ মোল্লা ওরফে মোল্লা শাওনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, সোহাগ মোল্লা ওরফে মোল্লা শাওন নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন এবং ‘দৈনিক যায়যায় বেলা’র প্রকাশক ও সম্পাদক হিসেবে তার নাম প্রকাশিত হয়েছে।



মন্তব্য