![]()
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সিরাজগঞ্জের সদর, কাজিপুর ও চৌহালী উপজেলার চরাঞ্চলে ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। গত ১০ থেকে ১৫ দিনের অব্যাহত ভাঙনে শতাধিক বসতবাড়ি, মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গাছপালা ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ায় নদীতীরবর্তী হাজারো মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কাজিপুর উপজেলার চরগিরিশ ইউনিয়নে ভাঙনের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। কয়েক বছর ধরে চলমান নদীভাঙনে একসময়ের জনবহুল এই চরাঞ্চলের বড় অংশই যমুনার গর্ভে হারিয়ে গেছে। সাম্প্রতিক ভাঙনে অন্তত ৩০ থেকে ৪০টি বসতবাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীতে বিলীন হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত প্রতিরোধ ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আরও অসংখ্য পরিবার তাদের শেষ সম্বল হারাবে।
ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘদিনের সঞ্চয়ে গড়ে তোলা বসতভিটা, কৃষিজমি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মুহূর্তেই নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়ি কিংবা অন্যের জমিতে অস্থায়ী আশ্রয় নিয়েছে। শুধু ঘরবাড়িই নয়, পূর্বপুরুষের কবরস্থান, মসজিদ এবং বিভিন্ন সামাজিক স্থাপনাও ভাঙনের কবলে পড়ে হারিয়ে যাচ্ছে। এতে পরিবারগুলো চরম অনিশ্চয়তা ও মানবিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছরই যমুনার ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিলেও স্থায়ী প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা আগে থেকেই চিহ্নিত থাকলেও সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। ভাঙন শুরু হলে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলা হলেও তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে কার্যকর হচ্ছে না। স্থায়ী তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
চৌহালী উপজেলার বাগুটিয়া ইউনিয়নের চরসলিমাবাদ, ভূতের মোড়, বিনানুই ও ভুসুরিয়া চরাঞ্চলেও একই চিত্র দেখা গেছে। প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চলমান ভাঙনে গত দুই সপ্তাহে অন্তত ৪০ থেকে ৫০টি বসতবাড়ি, মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পাশাপাশি শত শত বিঘা আবাদি জমিও নদীতে হারিয়ে গেছে।
এদিকে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাহুকা এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ তীররক্ষা বাঁধের প্রায় ৩০ মিটার অংশ গত সপ্তাহে যমুনার ভাঙনে বিলীন হয়েছে। সেখানে ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চালালেও স্থানীয়দের উদ্বেগ কাটেনি।
যমুনার পানি আরও বাড়তে থাকায় সদর, বেলকুচি ও শাহজাদপুর উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতেও ভাঙনের আশঙ্কা বেড়েছে। নিচু এলাকার ফসলি জমি ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে এবং কোথাও কোথাও নৌকা ছাড়া চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, যমুনার পানি বৃদ্ধির কারণে সদর, শাহজাদপুর ও চৌহালীর কয়েকটি এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলে তীর সংরক্ষণের কাজ চলছে। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে।



মন্তব্য