![]()
ঝালকাঠি প্রতিনিধি
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে সড়ক সংস্কারের অভাবে রাজাপুর-বাদুরতলা সড়কটি এখন জনদুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় খানাখন্দ। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্ত পানিতে তলিয়ে গিয়ে পুরো সড়ককে মৃত্যুফাঁদে পরিণত করছে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ সড়ক ব্যবহার করছেন। যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ায় দুর্ভোগের পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজাপুর-বাদুরতলা সড়কটি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষক ও সাধারণ মানুষ এ পথ দিয়ে যাতায়াত করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির কোনো সংস্কার কাজ না হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির সময় এসব গর্ত পানিতে ভরে যাওয়ায় চালকদের পক্ষে রাস্তার অবস্থা বুঝে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে। সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের একাধিক স্থানে পানি জমে ছোট ছোট পুকুরের মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। যানবাহন চলাচলের সময় কাদাপানি ছিটকে পথচারীদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, নারী ও বৃদ্ধদের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অটোরিকশা চালক মো. আকাশ হোসেন বলেন, “প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে কয়েকবার যাতায়াত করতে হয়। রাস্তার এত খারাপ অবস্থা যে গাড়ি চালানোই কষ্টকর হয়ে গেছে। গর্তে পড়ে প্রায়ই অটোর যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়। আয় করার চেয়ে এখন মেরামতের খরচই বেশি হয়ে যাচ্ছে। যাত্রীদেরও নানা অভিযোগ শুনতে হয়।” মোটরসাইকেল চালক মো. রাকিব হোসেন বলেন, “বৃষ্টির সময় কোনটা গর্ত আর কোনটা রাস্তা বোঝা যায় না।
একটু অসতর্ক হলেই দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়। কয়েকদিন আগে আমি নিজেও গর্তে পড়ে আহত হয়েছি। প্রতিদিন অনেক মোটরসাইকেল আরোহী ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা মো. খোকন জানান, “বছরের পর বছর ধরে রাস্তার এই অবস্থা। জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার জানানো হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। নির্বাচনের সময় অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, কিন্তু পরে আর কেউ খোঁজ নেয় না। এলাকাবাসী এখন চরম হতাশ। আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মো. সবুজ বলেন, এটি শুধু একটি রাস্তার সমস্যা নয়, পুরো এলাকার মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অসুস্থ রোগী হাসপাতালে নিতে সমস্যা হয়, শিক্ষার্থীরা সময়মতো স্কুলে যেতে পারে না। ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। দ্রুত সংস্কার না করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে অনেক যানবাহন এ পথে চলাচল করতে চায় না। ফলে পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে কাদা ও পানি জমে থাকায় ক্রেতাদের চলাচলও কমে যায়, যা ব্যবসার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সাময়িকভাবে কিছু জায়গায় ইট বা খোয়া ফেলে মেরামতের চেষ্টা করা হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। কয়েক দিনের মধ্যেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায় সড়কটি। তারা দ্রুত টেকসই সংস্কার কাজের দাবি জানিয়েছেন। রাজাপুর-বাদুরতলা সড়কটি এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ পথ হওয়ায় দ্রুত প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিয়ে সড়কটি সংস্কার করা জরুরি। অন্যথায় জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।



মন্তব্য