সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
 

১৮ মাসেই কোটিপতি, জামির হাতে ‘আলাদিনের চেরাগ’

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬

জামিনুল ইসলাম জামি

স্টাফ রিপোর্টার
সিলেট নগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের দর্জিবন্দ ও রায়নগর এলাকায় এখন একটি নাম সমস্বরে শোনা যায়— জামিনুল ইসলাম জামি। সাধারণ এক নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান থেকে মাত্র ১৮ মাসের ব্যবধানে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন জামি। বিলাসবহুল বাড়ি, একাধিক দামি গাড়ি, কাড়ি কাড়ি নগদ টাকার মালিক জামি এখন এলাকার অন্যতম ধনাঢ্য ব্যক্তি। দর্জিবন্দের বসুন্ধরা ১১১/বি ভূমিতে গড়ে তুলেছেন বহুতল ভবন। ইতিমধ্যে ভবনের ২য় তলার নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে।

মাত্র ১৮ মাসের ব্যবধানে কোটি টাকা ব্যয়ে বহুতল ভবন নির্মাণ, বিলাসবহুল প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল নিয়ে দাপিয়ে বেড়ানো— জামির এই জাদুকরী অর্থনৈতিক উত্থান রীতিমতো বিস্ময় সৃষ্টি করেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে। রূপকথার মতো এই সফলতার আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে এক অন্ধকার সাম্রাজ্য। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই বিশাল সম্পদের নেপথ্যে রয়েছে বেপরোয়া চাঁদাবাজি, ক্ষমতার দাপট এবং কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথর লুটের কালো টাকা।

গত দেড় বছরে জামির আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে উল্কার গতিতে। দর্জিবন্দ এলাকায় গড়ে তোলা বিলাসবহুল নির্মাণাধীন বহুতল ভবনটি দেখলে যে কারও চোখ কপালে উঠবে। যার পেছনে দেদারসে ব্যয় করা হচ্ছে কোটি টাকা। এত অল্প সময়ে বৈধ উপায়ে বিপুল পরিমাণ অর্থের মালিক হওয়া কীভাবে সম্ভব— এই প্রশ্ন এখন স্থানীয়দের মুখে মুখে।

জামির এই অপরাধমূলক কার্যক্রমের পেছনে বড় চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে পারিবারিক ও রাজনৈতিক প্রভাব। তার পরিবারে সাবেক ও বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতা রয়েছেন। ক্ষমতার প্রভাবই জামিকে করে তুলেছে বেপরোয়া। তার বাবা নজরুল ইসলাম বুলু হচ্ছেন সিলেট মহানগর ১৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) অন্যতম উপদেষ্টা। রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে জামি ও তার বাবা বুলুর বিরুদ্ধে এলাকায় সাধারণ মানুষের জমি ও প্লট দখলের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।

দর্জিবন্দ, দপ্তরীপাড়া, রায়নগর, রাজবাড়ী, মিতালী, ঝর্ণারপাড়, টিবি গেইট এলাকায় নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখতে জামি গড়ে তুলেছেন একটি বিশাল কিশোর গ্যাং। এবং বিভিন্ন কলোনির নেশাগ্রস্ত, বিপদগামী অল্পবয়সী কিশোর ও তরুণদের নিয়ে গঠিত এই বাহিনীই জামির প্রধান ‘পেশীশক্তি’।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, জামি নিজে আড়ালে থাকলেও তার কিশোর গ্যাংয়ের মাধ্যমে পুরো মাঠ পর্যায়ের অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করে। এই বাহিনীতে জামির অন্যতম সহযোগী নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ছাত্রলীগ নেতা তানভীরের নেতৃত্বে কিছু নেতাকর্মীও সক্রিয় রয়েছে। এই চক্রটিই বৃহত্তর রায়নগর এলাকায় কিশোর গ্যাং পরিচালনা, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে চলেছে।

মন্তব্য

সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর

Developed By: Dotsilicon