![]()
সামরুল হক, স্টাফ রিপোর্টার:
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে উপজেলা মডেল মসজিদে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টিকটকে ভিডিও ধারণ ও তা ভাইরাল হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক স্কুলছাত্রীকে বিদ্যালয় থেকে ছাড়পত্র (টিসি) দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক মহলসহ সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, দেওয়ানগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল বিভাগের জেনারেল ইলেকট্রনিক্স ট্রেডের শিক্ষার্থী মোছাম্মৎ সিনথিয়া আক্তার শান্তা সম্প্রতি দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা মডেল মসজিদে একটি ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেন। পরে ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, শিক্ষার্থীর এমন কর্মকাণ্ড শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে এবং এটি প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী। এ কারণে সোমবার (১১ মে) তাকে বিদ্যালয় থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।
তবে বিষয়টি নিয়ে অনেকেই ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় শিক্ষানুরাগী, সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের দাবি— একজন শিক্ষার্থীর একটি ভুলের কারণে তার পুরো শিক্ষাজীবন বন্ধ করে দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। তারা বলছেন, কৈশোর বয়সে অনেক শিক্ষার্থী আবেগ কিংবা অজ্ঞতার বশবর্তী হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব শুধু শাস্তি দেওয়া নয়, বরং শিক্ষার্থীদের সংশোধনের সুযোগ তৈরি করাও।
এলাকার কয়েকজন শিক্ষানুরাগী বলেন, “মানুষ মাত্রই ভুল করে। একজন শিক্ষার্থী যদি নিজের ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত হয়, তাহলে তাকে শুধরে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। একটি ভিডিওর কারণে তার ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাওয়া উচিত নয়।”
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা রক্ষার সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানালেও অধিকাংশ মানুষ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মেয়েটির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করছেন। অনেকেই বলছেন, শাস্তির পরিবর্তে সতর্কবার্তা, কাউন্সেলিং কিংবা অভিভাবকদের মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি করা হলে তা আরও ইতিবাচক ভূমিকা রাখত।
সচেতন মহলের মতে, বর্তমান প্রজন্ম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অত্যন্ত সক্রিয়। তাই শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তির ইতিবাচক ও নেতিবাচক ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন করতে পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষের কাছে মানবিক বিবেচনায় শিক্ষার্থীকে পুনরায় লেখাপড়ার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অনেকে। তাদের ভাষ্য, “শাস্তি নয়, সচেতনতা ও সংশোধনের সুযোগই একজন শিক্ষার্থীর সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারে।”



মন্তব্য