শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
 

চট্টগ্রামের ইপিজেডে লটারির নামে রমরমা জুয়া, সর্বস্বান্ত হচ্ছে শ্রমজীবী মানুষ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬

 ---

 

মোঃ আব্দুল হালিম নিরব ক্রাইম রিপোর্টার, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম ইপিজেড থানাধীন আকমল আলী রোড সংলগ্ন পকেট গেট ও খালপাড় কাজীর গলি মোড় এলাকা। এখানে প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে দীর্ঘ কয়েকমাস ধরে চলছে লটারি নামক এক ভয়ংকর প্রতারণার ফাঁদ। এই লটারির আড়ালে মূলত চলছে রমরমা জুয়া খেলা, যার মূল লক্ষ্য ইপিজেডের পোশাক শিল্প কারখানার হাজার হাজার নারী-পুরুষ শ্রমিক ও সাধারণ পথচারী। প্রতারণার নীল নকশা অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাত্র ১০ টাকার টিকেটের লোভ দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করে এই চক্রটি। এরপর বড় পুরস্কারের প্রলোভন দেখিয়ে সহজ-সরল ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে নগদ টাকা, এমনকি ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও। সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ অনুযায়ী: এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে উঠে এসেছে এমাদুল, জাকির, কবির, নজরুল ও হালিমসহ আরও কয়েকজনের নাম। তারা অত্যন্ত সুকৌশলে সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করে সবকিছু কেড়ে নিয়ে ‘সর্বহারা’ করে ছাড়ছে। বিপর্যস্ত জনজীবন ও সামাজিক অবক্ষয় এই লটারি জুয়ার প্রভাব পড়ছে সরাসরি পারিবারিক জীবনে। সর্বস্ব হারিয়ে যখন একজন শ্রমিক ঘরে ফেরেন, তখন শুরু হয় দাম্পত্য কলহ। এলাকাবাসীর দাবি, এই জুয়া খেলার কারণে এলাকায় চুরি-ছিনতাই বৃদ্ধির পাশাপাশি পারিবারিক বিচ্ছেদ ও মারামারির মতো ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। “দশ টাকার লোভ দেখিয়ে আমাদের পকেট খালি করা হচ্ছে। প্রশাসন আসে, ধরে নিয়ে যায়, কিন্তু দুদিন পর আবার সব আগের মতো চলতে থাকে। আমরা এই অভিশাপ থেকে মুক্তি চাই।” — জনৈক ভুক্তভোগী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক)। প্রশাসনের ভূমিকা ও নেপথ্যের শক্তি বিস্ময়কর বিষয় হলো, এই জুয়ার আসরটি চলছে থানা পুলিশের অতি নিকটবর্তী এলাকায়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থাকার কারণে এই চক্রটিকে স্থায়ীভাবে দমন করা যাচ্ছে না। এর আগে পুলিশ একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করলেও, অদৃশ্য ইশারায় কয়েকদিন পরই আবারও চালু হয় এই অবৈধ কারবার। বারবার অভিযানের পরও প্রশাসনের এই “ব্যর্থতা” নিয়ে জনমনে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন—প্রভাবশালী মহলের হাত কতটুকু লম্বা হলে এভাবে প্রকাশ্যে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলতে পারে? এলাকাবাসীর দাবি চট্টগ্রামের সচেতন নাগরিক ও এলাকাবাসী জেলা পুলিশ ও ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের প্রতি জোরালো দাবি জানিয়েছেন: ১. এই লটারি নামধারী জুয়া স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। ২. এর সাথে জড়িত মূল হোতা ও নেপথ্যের মদদদাতাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। ৩. ইপিজেড এলাকার সাধারণ মানুষের উপার্জিত অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। শান্তিপূর্ণ সামাজিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপই এখন সময়ের দাবি

মন্তব্য

সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর

Developed By: Dotsilicon