বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
 

শ্রুতিলেখকের সহায়তায় এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিল বিথী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬

---

মো. শামীম হোসাইন

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নৃশংস হামলার শিকার হয়ে ডান হাত ভেঙে গেলেও দমে যায়নি এসএসসি পরীক্ষার্থী বিথী আক্তার (১৫)। শারীরিক যন্ত্রণা ও প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে শেষ পর্যন্ত শ্রুতিলেখকের সহায়তায় পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সাহসিকতার এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে সে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল বিথীদের সঙ্গে তার আপন চাচার পরিবারের। সেই বিরোধের জেরে সম্প্রতি বিথীর ওপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, তার চাচা হাতুড়ি দিয়ে বিথীর ডান হাতে আঘাত করেন। এতে তার হাত গুরুতর জখম হয় এবং হাড় ভেঙে যায়। আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এই ঘটনার ফলে বিথীর এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। কারণ, সে ডান হাতে লিখতে অক্ষম হয়ে পড়ে। বিথী তোফেল আকন মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী এবং চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী।

বিথীর এমন পরিস্থিতির কথা জানাজানি হলে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আসে। মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকলিমা আক্তার তাৎক্ষণিকভাবে উদ্যোগ নেন। তিনি বিথীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার চিকিৎসা ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখেন। পরে তিনি বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে বিশেষ আবেদন জানান, যাতে বিথী শ্রুতিলেখকের সহায়তায় পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে।

প্রশাসনের এই উদ্যোগের প্রেক্ষিতে বোর্ড কর্তৃপক্ষ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আবেদনটি গ্রহণ করে। একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মরিয়ম আক্তারকে বিথীর জন্য শ্রুতিলেখক হিসেবে নিয়োগের অনুমতি দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় শ্রুতিলেখকের মাধ্যমে অংশ নেয় বিথী। পরীক্ষাকেন্দ্রে তার উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত আবেগঘন। শারীরিকভাবে কষ্ট থাকলেও দৃঢ় মনোবল নিয়ে পরীক্ষায় বসে সে। তার এই সাহসিকতা উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অনেককে অনুপ্রাণিত করে।

বিথী জানায়, “হাত ভেঙে যাওয়ার পর মনে হয়েছিল হয়তো এবার পরীক্ষা দেওয়া হবে না। কিন্তু সবার সহযোগিতায় আবার সুযোগ পেয়েছি। আমি ভালোভাবে পরীক্ষা শেষ করতে চাই।”

বিথীর পরিবার প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানায়, দ্রুত উদ্যোগ না নিলে তাদের মেয়ের এক বছরের শিক্ষাজীবন নষ্ট হয়ে যেত।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকলিমা আক্তার বলেন, “আমরা শুরু থেকেই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেছি। মেয়েটির সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যেন তার শিক্ষাজীবন বাধাগ্রস্ত না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও তার পাশে থাকব।”

মন্তব্য

সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর

Developed By: Dotsilicon