![]()
জাবি প্রতিনিধি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ব্যানারে “গণভোট অস্বীকার ও অধ্যাদেশ বাতিলের রাজনীতি”বিষয়ক একটি সেমিনার আয়োজনে জাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) এর মতামত না নেওয়া ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল ) দুপুর ১ টার দিকে জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু তার অফিসিয়াল ফেইসবুক ওয়ালে এক পোস্টের মাধ্যমে এ অভিযোগ করেন।
তিনি উল্লেখ করেন,সম্প্রতি জাকসুর নামে গণভোট বিষয়ক একটি সেমিনারের ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ আয়োজনের বিষয়ে জাকসুর কোনো আনুষ্ঠানিক সভা অনুষ্ঠিত হয়নি এবং সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে পূর্ব আলোচনা বা মতবিনিময়েরও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে অনেক সদস্যই বিষয়টি সম্পর্কে আগে থেকে অবগত ছিলেন না।
অভিযোগ অনুযায়ী, সেমিনারের অতিথি নির্বাচন, বাজেট নির্ধারণ, সময়সূচি চূড়ান্তকরণ এবং আয়োজনের উদ্দেশ্য—এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনো সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। বিশেষ করে সংগঠনের সহ-সভাপতি (ভিপি) এবং সভাপতির সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি বলে জানা গেছে। ভিপি দাবি করেছেন, প্রচারণা শুরুর আগ পর্যন্ত তিনি এ আয়োজন সম্পর্কে কিছুই জানতেন না।
এ বিষয়ে জাকসুর একাধিক সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জাকসুর মতো একটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ কোনো আয়োজনের আগে সকল সদস্যের মতামত নেওয়া এবং আনুষ্ঠানিক সভার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু এখানে সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে।”
সংশ্লিষ্টরা আরও দাবি করেন, জাকসুর ব্যানারে কোনো আয়োজন করতে হলে অবশ্যই গঠনতন্ত্র মেনে সকল সদস্যকে নিয়ে সভার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অন্যথায়, কেউ চাইলে নিজ নিজ দলীয় ব্যানারে এ ধরনের আয়োজন করতে পারেন।
অভিযোগের বিষয়ে জাকসুর সহ সাধারণ সম্পাদক (এজিএস)(পুরুষ) ফেরদৌস আল হাসান বলেন” আমাদের প্রত্যাশা ছিল নির্বাচিত সরকার যেই আসুক না কেন তারা গনভোট মেনে নিবে। যেখানে দেশের জনগণ গনভোট গ্রহন করেছে। আমরা এবিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতেই মুলত সেমিনারটি আয়োজন করেছি। কিন্তু সেমিনার আয়োজনের যে সমন্বয় করেছিল সে সবাইকে আয়োজনের বিষয়ে অবগত করতে ব্যার্থ হয়েছে।এজন্য আমাদের মধ্যে কিছুটা ভুল বুঝাবুঝি তৈরি হয়েছে। আমরা সেই ভুল বুঝাবুঝির সমাধান করেই সেমিনারটি আয়োজন করব”
এবিষয়ে জাকসুর সাধারণ সম্পাদক( জিএস) মাজহারুল ইসলাম বলেন ” এই সেমিনারের ব্যাপারে আমাদের সমাজসেবা সম্পাদক প্রথমে প্রস্তাব করেন তখন ভিপিকে জানানো হলে তিনি মৌন সম্মতি প্রদান করেন এবং বলেন সবকিছু প্রস্তুত করে তাকে জানানোর জন্য। আমি যতটুকু জানি সমাজসেবা সম্পাদক তাকে সেমিনারের ফটোকার্ডটা দেখাছে কিন্তু সে হয়তো কাজের চাপে দেখেননি।
তিনি আরও বলেন” আমরা চেষ্টা করেছি বিএনপির ও ছাত্রদলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সেমিনারে নিয়ে আসতে কিন্তু তারা রহস্যজনকভাবে বিষয়টি এরিয়ে যান।আমরা সবসময়ই বলতে চাই যে গনভোট ইস্যুতে আলোচনার জন্য আমরা সবাইকেই স্বাগত জানাই। কিন্তু দুঃখের বিষয় একটি পক্ষ গনভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা না বলে পলিথি,প্রক্রিয়া লঙ্ঘনের মতো তুচ্ছ অভিযোগ করছে”
এছাড় জাকসুর সমাজসেবা ও মানবাধিকার উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক আহসান লাবিব বলেন, “আমি সর্বপ্রথম জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু ভাইয়ের কাছে সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে জাকসুর উদ্যোগে একটি সেমিনার করার বিষয়ে পরামর্শ করি। উনি বললেন, হ্যাঁ প্রোগ্রাম তো করা যায়। তবে আমার জন্য টাফ হয়ে যায়। আমাকে না রাখলে ভালো হয়। তুই জিএস মাজহারুল ইসলাম এর সাথে আলোচনা করে প্রোগ্রাম করে ফেল। আর গেস্ট প্যানেল ফাইনাল হওয়ার আগে আমাকে দেখায়া নিস। এরপর আমি জিএস মাজহারুল ইসলাম এর সাথে আলোচনা করে, প্রোগ্রাম নিয়ে আগাতে থাকি। বিভিন্ন দল ও মতের একাডেমিক, শিক্ষক ও নেতৃবৃন্দকে এপ্রোচ করতে থাকি। আমি সবার প্রথমে জাতীয়তাবাদী আদর্শের বেশ কয়েকজন শিক্ষককে এপ্রচ করি, কিন্তু তারা নানা কারণ দেখিয়ে অপরাগতা প্রকাশ করেন। ছাত্রদলের একজন কেন্দ্রীয় নেতাকে একাধিকবার এপ্রচ করলেও, উনি রেসপন্স করেননি। সত্যি বলতে সরকার দল থেকে গেস্ট ম্যানেজ করার জন্য আমি প্রায় তিনদিন সময় নিয়ে প্রচুর চেষ্টা করেছি ,কিন্তু সফল হতে পারিনি। এছাড়াও শহীদুল আলম ভাই, হাসনাত কাইয়ুম ভাইদের সাথে কথা বলেছি। তারাও সময় দিতে পারেননি।”
আরও বলেন,”পরবর্তীতে গতকাল রাত আটটায় প্রোগ্রাম এর বিষয়ে আপডেট জানানোর জন্য ভিপি জিতু ভাইকে কল দিয়েছি। উনি রেসপন্স করেননি, রিপ্লাই করেননি। তারপর মাজহার ভাই এর সাথে আলোচনা করে কাজ আগিয়ে নিয়েছি। সকালবেলায় পেইজ থেকে পোস্ট যাওয়ার পর উনি আপত্তি জানান যে, উনার সাথে বিস্তারিত আলাপ করা হয়নি। অথচ প্রথম আলাপ আমি তার সাথে করেছি এবং সবকিছু চূড়ান্ত করার জন্যেও তাকে কল দিলে পাইনি। অবশ্য অনেক সম্পাদকও উনাকে ঠিকঠাক কলে পাননা, এটা নিয়ে সবার অভিযোগও বিস্তর।”
উল্লেখ্য, জাকসুর ব্যানারে প্রকাশিত ফটোকার্ডে দেখা যায়, উক্ত সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, অ্যাডভোকেট আবু হেনা রাজ্জাকি, সাইফ মোস্তাফিজ, মাজহারুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী, সাদিক কায়েম, মণিকা শারমিন, জাহিদ আহসান ও জাহিদুল ইসলাম।
এ সেমিনারটি আগামী ৯ এপ্রিল বিকেল ৩টায় জাহির রায়হান মিলনায়তনের সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।



মন্তব্য