রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
 

যথাযোগ্য মর্যাদায় বাকৃবিতে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

---

বাকৃবি প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যে পালিত হয়েছে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস- ২০২৬। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচীর আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটি।

 

দিবসটি উদযাপনের শুরুতে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সূর্যোদয়ের সাথে সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অফিস, আবাসিক হল, স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

এর আগে শনিবার প্রথম প্রহরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি হলের শহিদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পনের মাধ্যমে এ উদযাপন শুরু হয়।

 

এরপর সকাল আটটায় ঈশা খাঁ হল সংলগ্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম শহিদ মিনারে শ্রদ্ধাশীল অর্পণ করেন উপাচার্য অধ্যাপক এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। এরপর উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশাখী চত্বর থেকে প্রভাতফেরি শুরু হয়।

 

এতে জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটির সভাপতি ও ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক মো. শহীদুল হক, প্রক্টর অধ্যাপক মো. আবদুল আলীম, রেজিস্ট্রার মো. হেলাল উদ্দীন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. হুমায়ূন কবিরসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা অংশ নেন। কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে গিয়ে প্রভাতফেরি শেষ হয়।

 

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির ব্যবস্থাপনায় ও শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামান সরকারের সঞ্চালনায় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন উপাচার্য অধ্যাপক মো. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া।

 

ভাষা আন্দোলনের স্মরণ করে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘পাকিস্তানী শাসকরা জানতেন বাংলা ভাষাভাষী মানুষ কখনও তাদের মাতৃভাষা উর্দু হতে দেবে না। তারা শোষণ ও নিপীড়নের মাধ্যমে বাংলার মানুষকে দমাতে চেয়েছিলেন কিন্তু তা পারেননি। ১৯৫২ সালের ২১ফেব্রুয়ারিতে শিক্ষিত শ্রেণি থেকে শুরু করে শ্রমজীবী মানুষ সেদিন রাজপথে নেমে এসেছিলেন। তাদের আত্মত্যাগের মাধ্যমেই অর্জিত হয়েছে আমাদের মাতৃভাষা বাংলা। আজ আমরাই বিশ্বের বুকে একমাত্র দেশ যারা ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছি।’

 

উপাচার্য আরও বলেন, ‘আমরা মাতৃভাষায় কথা বললেও শিক্ষা ও দাপ্তরিক কাজের সর্বোচ্চ স্তরে বাংলাকে এখনও কাঙ্ক্ষিত মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করতে পারিনি। তবে আমার বিশ্বাস ২০২৬ সালের সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত গণতান্ত্রিক সরকার সর্বস্তরে প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক পর্যায়ে বাংলা ভাষা প্রচলনে সচেষ্ট হবেন।’

 

এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল হল, ছাত্র সংগঠন, রাজনৈতিক সংগঠন ও অভ্যন্তরীণ স্কুল-কলেজের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। পরে উপস্থিত সকলকে শপথবাক্য পাঠ করান উপাচার্য।

 

এদিন বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি ব্যবস্থাপনায় ‘একুশের চেতনা ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের উদ্যোগে ‘একুশের চেতনা ও নতুন প্রজন্মের স্বদেশ ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়াজন করা হয়েছে। দুপুরে বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের সব মসজিদ, মন্দির ও অন্যান্য উপাসনালয়ে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।

মন্তব্য

সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর

Developed By: Dotsilicon