সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
 

জবর দখলবাজের “খুঁটির জোর” কোথায়?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

---

বিশেষ প্রতিবেদক

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ নতুন কিছু নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে গাজীপুর মহানগরীর একটি এলাকায় দুই ব্যক্তিকে ঘিরে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—জবর দখলবাজদের “খুঁটির জোর” কোথায়?

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পুবাইল থানার হায়দারাবাদ এলাকায় ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক মেম্বার মো. আবুল কাশেম এবং পলাশর ডেকোরেটরের প্রতিষ্ঠাতা আবুল হাশেমের বিরুদ্ধে জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে।

অভিযোগকারীদের বক্তব্য

অভিযোগকারী হিন্দু সম্প্রদায়ের দুই ভাই—বিপ্লব চন্দ্র সরকার ও প্রদীপ চন্দ্র সরকার। তাঁদের দাবি, ১৯০৮ সাল থেকে তাঁদের পূর্বপুরুষদের বসতবাড়ি, বিটা ও খেতখামারের জমি সংক্রান্ত সিএস, আরএস ও এসএ রেকর্ডে তাঁদের পরিবারের নাম বিদ্যমান। যদিও গাজীপুরে এখনও বিএস সেটেলমেন্ট সম্পন্ন হয়নি, তবে তাঁদের হাতে ডিজিটাল খাজনা ও খারিজ সংক্রান্ত প্রমাণপত্র রয়েছে, যা তাঁদের একান্ত মালিকানা নির্দেশ করে।

তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের বিরোধের প্রেক্ষিতে তাঁরা একাধিক মামলা দায়ের করেন এবং পর্যায়ক্রমে রায় পান—

মিস আপিল নং ১২৫/২০১৩ — রায়: ০৪/০৩/২০১৮

মিস মোকাদ্দমা নং ৫৫/২০২০ — রায়: ০৭/০২/২০২১ (পরবর্তীতে বিবাদীপক্ষ আপিল করে)

পুনরায় রায় — ১৩/০২/২০২৩ (এডিসি কোর্ট)

অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) আপিল নং ৫৯৭/২০২৩ — রায়: ১৪/১১/২০২৩

ভূমি আপিল বোর্ড মামলা নং ৫১৯/২০২৪ — রায়: ২৪/০৪/২০২৪

তাঁদের দাবি, একাধিক আদালতে রায় পাওয়ার পরও প্রভাব ও রাজনৈতিক পরিচয়ের ছায়ায় তাঁদের জমি নিয়ে বিরোধ ও জবরদখলের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।


অভিযুক্তদের প্রতিক্রিয়া

অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁরা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”


আইন কী বলছে?

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, জমি দখল বা জবর প্রবেশের মতো অপরাধের ক্ষেত্রে দেশের প্রচলিত আইনে সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে।

দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪৪১ ও ৪৪৭ ধারায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ও জবর দখলের শাস্তির বিধান রয়েছে।

ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮-এর ১৪৫ ধারায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে ম্যাজিস্ট্রেটের হস্তক্ষেপের সুযোগ রয়েছে।

আইনজীবীদের মতে, আদালতের রায় কার্যকর না হলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের মাধ্যমে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।


জনমতের প্রতিক্রিয়া

সচেতন মহল বলছে, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া জরুরি। একইসঙ্গে, মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে কাউকে সামাজিকভাবে হেয় করাও অনুচিত।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য— “আইনের শাসন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। ক্ষমতা বা পরিচয় নয়, সত্যের ভিত্তিতেই বিচার হওয়া দরকার।”

মন্তব্য

সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর

Developed By: Dotsilicon