![]()
সাইফুল ইসলাম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার জুলধা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ফাইপের গোড়া বাজার এলাকার আব্দুল সালামের নতুন বাড়ির পাশে দীর্ঘদিনের শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবহারাধীন জায়গাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। দেয়াল ভাঙন ও ড্রেন নির্মাণ প্রকল্পকে ঘিরে এই বিরোধ ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করেছে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, আব্দুল সালাম ও তাঁর ভাই আব্দুল মাবুদ প্রায় ২৫ বছর ধরে যৌথভাবে ক্রয়কৃত ও উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জায়গাগুলো পারস্পরিক সম্মতিতে ব্যবহার করে আসছিলেন। এত দীর্ঘ সময়ে কোনো বিরোধ দেখা দেয়নি। প্রায় ২৫ বছর আগে পারিবারিক সুবিধা অনুযায়ী জায়গা অদলবদল করে উভয় পরিবার নিজ নিজ অংশ ভোগ করে আসছিলেন।
সাম্প্রতিক সময় এলাকায় সরকারি বরাদ্দে ড্রেন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ চলছিল স্থানীয় জামায়াত নেতা মোহাম্মদ হোসেনের তত্ত্বাবধানে। কাজের সময় বাউন্ডারি দেয়াল ধসে পড়ে। দেয়াল পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নিলে মৃত আব্দুল মাবুদের পরিবারের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়া হয়। এরপর তারা হঠাৎ সম্পত্তি বণ্টনের দাবি তোলেন এবং পরবর্তীতে টিনশেড স্থাপন করে জায়গা দখলের অভিযোগ ওঠে।
এদিকে, জায়গার এক মালিক আব্দুল সালাম বর্তমানে প্রবাসে থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে বণ্টন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তাঁর দেশে ফিরতে আরও ৩–৪ মাস সময় লাগবে বলে পরিবার জানিয়েছে।
আব্দুস সালামের পরিবারের দাবি, “দুই ভাই দীর্ঘদিন শান্তিপূর্ণভাবে জমি ব্যবহার করে এসেছেন। আচমকা বণ্টন দাবি তোলা বাস্তবসম্মত নয়। ন্যায্য সিদ্ধান্তের জন্য উভয় পক্ষের উপস্থিতি জরুরি। তাই প্রবাসীর দেশে ফেরা পর্যন্ত সময় চেয়ে প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হয়েছে। হঠাৎ দেয়াল ভেঙে পড়ার পর পুনর্নির্মাণে বাধা প্রদান করে তারা টিনশেড দিয়ে জোর করে জায়গা দখল করে। আমরা মাত্র তিন মাস সময় চাইলেও তারা তা মানেনি।”
স্থানীয় বাসিন্দারাও দীর্ঘদিন ধরে জায়গাটি আব্দুস সালামের পরিবারের ভোগদখলে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তারা জানান, “আগে জায়গাটি ছিল নিচু গর্তের মতো। মানুষ সেখানে জাল দিয়ে মাছ ধরত। পরে আব্দুস সালাম নিজ উদ্যোগে মাটি এনে ভরাট করেন, বাউন্ডারি নির্মাণ করেন, ঘর-বাগান করেন এবং পরে জায়গাটিকে গ্যারেজ হিসেবেও ব্যবহার করেন। প্রায় ২৫ বছর ধরে জমিটি তাঁরাই ভোগ করছেন। কিন্তু ড্রেন নির্মাণ প্রকল্পের দেয়াল ভাঙনকে কেন্দ্র করে বিরোধ তৈরি হয়েছে, যা তাদের প্রতি অবিচার।”
ড্রেন নির্মাণের দায়িত্বে থাকা জামায়াত নেতা মোহাম্মদ হোসেন বলেন, “ড্রেন নির্মাণ করতে গিয়ে দেয়াল ধসে পড়ে। আমরা বারবার দেয়াল পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করি, কিন্তু আব্দুল মাবুদের পরিবার বাধা দেয় এবং পরে টিনশেড দিয়ে জায়গা দখল করে নেয়।”
অন্যদিকে মৃত আব্দুল মাবুদের স্ত্রী বলেন,
“আমাদের অংশীদারিত্বের জায়গা বুঝে নিতে হবে। এ বিষয়ে থানায় আপোষনামা হয়েছে— আমরা সেটির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।”
এ বিষয়ে কর্ণফুলী থানার এসআই শফিউল্লাহ বলেন,
“উভয় পরিবারের মধ্যে জায়গা-সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। আব্দুল সালাম প্রবাসে থাকায় তাঁর পরিবার সময় চেয়েছিল যাতে তিনি এসে বিষয়টি মীমাংসায় অংশ নিতে পারেন। আমরা চাই কিছুটা দেরি হলেও স্থায়ী সমাধান হোক। গত ৬ ডিসেম্বর উভয় পক্ষ থানায় একটি আপোষনামায় স্বাক্ষর করেছে। আপোষনামা অনুযায়ী, আব্দুল সালাম দেশে ফিরলে আগামী ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে আলোচনায় বসে স্থায়ীভাবে জমি-বণ্টন নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে দুই পরিবার আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ও স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাবে। পাশাপাশি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত জায়গাটিতে কোনো ধরনের নির্মাণকাজ, পরিবর্তন বা দখল প্রচেষ্টা বন্ধ রাখারও দাবি জানিয়েছেন আব্দুস সালামের পরিবার ও এলাকাবাসী।



মন্তব্য