![]()
মোঃ শাকিল মোল্লা, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়ন এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেড়মাস আগে জাহাঙ্গীর মল্লিক (৩৭) নামে এক যুবককে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে দূবৃত্তরা। এ ঘটনায় এজাহারভুক্ত ৯ জন আসামির মধ্যে ৭ জন ইতিমধ্যে জামিন নিয়ে এসেছে। ১ ও ২ নং আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পুলিশকে বারবার তথ্য জানালেও গ্রেফতার করছে না। উপরন্তু আসামীরা মামলা তুলে নিতে জাহাঙ্গীরের পরিবারকে নানাভাবে হুমকি ধামকি দিচ্ছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্হানে চিকিৎসা করার পরও জাহাঙ্গীরের অবস্থার উন্নতি হচ্ছে না। ইতিমধ্যে তার অবস্থার গুরুতর অবনতি হয়েছে। বাড়িতে থেকে অর্থাভাবে মৃত্যুর সাথে পান্জা লড়ছেন তিনি।
মামলার ১ নং আসামি মানিক মোল্লা সহ সকল আসামীকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান জাহাঙ্গীরের ভুক্তভোগী পরিবার।
শনিবার (৬ জুন) সকাল এগারোটায় গোয়ালন্দ শহীদ মহিউদ্দিন আনসার ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে জাহাঙ্গীরের ভুক্তভোগী পরিবার উপরোক্ত অভিযোগ ও দাবি করেন।। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রায় দেড় মাস আগে ছাগলে ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধ সৃষ্টি হয়। উক্ত বিরোধের জের ধরে গত ২৬ এপ্রিল মানিক ও আলাম সহ ৮/৯ জন লোক আমাদের বাড়িতে এসে হামলা করে। তারা জাহাঙ্গীরকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে মাথা সহ শরীরের বিভিন্ন স্হানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।
মাথায় প্রচন্ড আঘাতে প্রথমে ফরিদপুর এরপর ঢাকায় চিকিৎসা করানো হয় বর্তমানে সে মৃতপ্রায়। খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। কোন কথা বলতে পারে না।কাউকে চিনতেও পারছে না। শরীর কঙ্কালের মতো হয়ে গেছে। এ ঘটনায় থানায় দায়ের করা মামলায় ৯ জন আসামির মধ্যে ৭ জন জামিনে আছে। কিন্তু মামলার ১ ও ২ নম্বর আসামি মোঃ মানিক মোল্লা (৩০) ও মোঃ আলম মন্ডল (৪৫) বাইরে থাকলেও পুলিশ তাদের আটক করছে না।
পুলিশকে আসামিদের অবস্থান জানালেও পুলিশ তাদের আটক করছে না। তাছাড়া আসামীরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নানাভাবে হুমকি ধামকি দিচ্ছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্হিত ছিলেন আহত যুবক জাহাঙ্গীর, তার বোন রাহিমা খাতুন, মা মহিরন বেগম, বড় ভাই ও মামলার বাদী মকিম মল্লিক ও স্ত্রী আছমা বেগম। অভিযোগের বিষয়ে মামলার ১ নং আসামী মানিক মোল্লা মুঠোফোনে দাবি করেন, জাহাঙ্গীর একজন মাদক সেবনকারী। তাকে মাদক সেবনে নিষেধ করলে ঘটনার সুত্রপাত হয়। সে রাস্তা ঘাটে খোলামেলা জায়গায় মাদক সেবন করে। আমি একটা সিগারেট পর্যন্ত খাইনা। এলাকায় এসে লোকজনের নিকট থেকে বিষয়টি জানতে পারেন।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, মামলায় ৯ জন এজাহারভুক্ত আসামীর মধ্যে ৭ জন বিজ্ঞ আদালত হতে জামিন নিয়ে এসেছে। ১ ও ২ নং আসামির জামিন হয়নি। তারা পলাতক রয়েছে। পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে। ভিকটিম জাহাঙ্গীরের অবস্থা খুবই গুরুতর। তাকে ন্যায় বিচার পাইয়ে দিতে আমরা আন্তরিক আছি। তবে তার পরিবারের অভিযোগগুলো সঠিক নয়।



মন্তব্য