![]()
মো. শামীম হোসাইন
পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার সেখমাঠিয়া ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিনটি বসতঘর পুড়ে গেছে। সোমবার (২ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কয়েক মিনিটের এই আগুনে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আগুনের খবর পেয়ে জাকির হোসেন দৌড়ে এসে দেখেন তার ঘরটি দাউদাউ করে জ্বলছে। শিশুর পড়ার টেবিল থেকে শুরু করে পরিবারের প্রয়োজনীয় কোনো সামগ্রীই আর রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। তিনি কেবল পরিবারের সদস্যদের নিরাপদে বের করে আনতে সক্ষম হন।
অগ্নিকাণ্ডে জাকিরের দুই চাচা—মোশারেফ শেখ ও সারোয়ার শেখের ঘরও আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক রাতেই তিন পরিবারের প্রায় ২০ লাখ টাকার বেশি সম্পদের ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে ঘরের ভেতর থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, আসবাবপত্র, পোশাক কিংবা কোনো মূল্যবান জিনিসও তারা বের করে আনতে পারেনি। স্থানীয়দের ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত।
বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। নেই ঘর, নেই শোবার জায়গা, নেই ব্যবহারের মতো কোনো সামগ্রী। শীতের রাতে কোথায় আশ্রয় নেবে, কীভাবে নতুন করে ঘর তুলবে—এসব নিয়ে তারা চরম দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন। বিশেষ করে নারী ও বৃদ্ধ সদস্যরা খাদ্য, পোশাক ও আশ্রয়ের অভাবে মারাত্মক ভোগান্তিতে আছেন। শিশুদের কান্না আর বড়দের অনিশ্চয়তা—পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ।
গ্রামবাসীরা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দ্রুত সহায়তা না দিলে তাদের দুর্বিপাক আরও বাড়বে। অনেকেই খাবার, কাপড় ও সাময়িক আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে সাহায্যের চেষ্টা করছেন, তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল।
জাকির হোসেন বলেন, “আমার ঘর আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। যেখানে আমাদের সব স্মৃতি আর পরিশ্রমের ফল ছিল, তা মুহূর্তের মধ্যে শেষ হয়ে গেল। চোখের সামনে সব পুড়ে যাওয়ার দৃশ্য আমি ভুলতে পারি না। এই ক্ষতি কিভাবে পুষিয়ে নেব, জানি না।”
নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া শাহনাজ তমা জানান, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো আবেদন করলে দ্রুত সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।



মন্তব্য