শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
 

জীবিকার পথেই ঝরে গেল প্রাণ, রক্তাক্ত অটোরিকশার পাশে নিথর নূরুজ্জামান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৫

---
মোঃ আমিনুল হক. ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি  
একটি শান্ত সকালের পর ভোররাত ভেঙে যখন সূর্য উঠছিল, তখনই দুল্লী সেতুর নিচে দু’টি বিলের মাঝের জনমানবহীন পথ যেন সাক্ষী হয়ে থাকল এক নির্মম ট্র্যাজেডির। জীবিকার আশায় ঘর থেকে বেরিয়ে আর ফেরেননি নওয়াপাড়ার পাচহার বড়বাড়ির ছেলে, ৩৫ বছর বয়সী অটোরিকসা চালক  নূরুজ্জামান। আজ সেই পরিবারে শুধু কান্না, হাহাকার আর দীর্ঘশ্বাস।

মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে নিজের অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন নূরুজ্জামান। রাতে কেন্দুয়ার সিএনজি স্টেশন থেকে তিনজন পুরুষ ও একজন নারী যাত্রীকে নিয়ে বের হন তিনি। আর সেখান থেকেই শুরু হয় নিখোঁজ হওয়ার গল্প, যার করুণ পরিণতি ঘটে ভোররাতে—দুল্লী সেতুর পাশে একটি বিলের ধারে, নিজের রক্তে ভেজা অটোরিকশার কাছেই পড়ে ছিল তাঁর নিথর দেহ।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত তিনটার দিকে পথচারীরা প্রথম দেখতে পান রক্তাক্ত মরদেহটি। পাশেই পড়ে ছিল ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় অলি মিয়া (২৫) নামের এক যুবক, যিনি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর কাছ থেকেই খোলাসা হতে পারে ঘটনার রহস্য।

নূরুজ্জামানের মৃত্যুর খবরে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তাঁর বৃদ্ধ মা  অপেক্ষায়—”বাবা আসবে, শুধু একটু দেরি হচ্ছে”—এই আশায়। কিন্তু তাঁকে বোঝাবে কে যে তাঁর ‘বাবা’ আর কোনো দিন ফিরবেন না।

কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, ‘ধারণা করা হচ্ছে, যাত্রীবেশে দুর্বৃত্তরা অটোরিকশা ছিনিয়ে নিতে নূরুজ্জামানকে হত্যা করেছে। তাঁর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।’

পাশের গ্রামের একজন প্রবীণ বলেন, “নূরু কোনো দিন কারও সঙ্গে উঁচু গলায় কথা বলত না। ভোরে এমন খবর শুনে পাথর হয়ে গেছি।

এই হত্যাকাণ্ড শুধু একটি প্রাণের অবসান নয়, এটি একটি পরিবারের স্বপ্ন, নিরাপত্তাবোধ ও আশার নির্মম ছিন্নভবন।
আজ কেন্দুয়া কাঁদছে—নূরুজ্জামানের জন্য, একজন পরিশ্রমী মানুষের নিষ্পাপ বিদায়ের জন্য।

মন্তব্য

সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর

Developed By: Dotsilicon