রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
 

গোয়ালন্দে ইউএনও’র উদ্যোগে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৫

 ---

মোঃ শাকিল মোল্লা, রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি:

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় শিক্ষার মান উন্নয়নে ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে প্রপার হাই স্কুলের আয়োজনে ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) সকাল ১০টায় গোয়ালন্দ প্রপার হাই স্কুলের হলরুমে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ নাহিদুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জয়ন্ত কুমার দাস। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন প্রপার হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান এবং সঞ্চালনা করেন সহকারী শিক্ষক জীবন চক্রবর্তী। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মোঃ নাহিদুর রহমান বলেন,“শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনে বিদ্যালয়, শিক্ষক, অভিভাবক এবং প্রশাসনের সম্মিলিত ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি। শুধুমাত্র পাঠ্যপুস্তক নয়, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার শিক্ষার অংশ হওয়া উচিত।

 ---

আজকের এই সমাবেশের মূল উদ্দেশ্য হলো, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে সরাসরি সংলাপ সৃষ্টি করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত উন্নয়নের পথ সুগম করা। আমি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি—গোয়ালন্দে শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করতে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে যাব।” তিনি আরও বলেন,“বাচ্চারা যাতে মোবাইলের অপব্যবহার থেকে দূরে থাকে, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষকরা যেন ন্যায্যভাবে সকল শিক্ষার্থীর প্রতি সমান দৃষ্টি দেন এবং কোনো শিক্ষার্থীকে কোচিং নির্ভর করে ফেল বা পাসের ভয় দেখানো না হয়—এটা নিশ্চিত করতে হবে।”সমাবেশে অংশ নেওয়া অভিভাবক লিয়াকত আলী বলেন, “শিক্ষাটা এমন একটা দিক, যেখানে আমাদের সবার সচেতন থাকা জরুরি। ক্লাসে উপস্থিতি, পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ এবং মোবাইলের অপব্যবহার থেকে দূরে রাখা—এই সব কিছুর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।”উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জয়ন্ত কুমার দাস বলেন, “একটি শিক্ষার্থীর সার্বিক উন্নয়ন শুধুমাত্র স্কুলের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়, তার জন্য পরিবার এবং সমাজেরও সমান দায়িত্ব রয়েছে। শিক্ষকরা যেন পাঠদানের সময় শ্রেণিকক্ষে সর্বোচ্চ মনোযোগ দেন এবং কোনোভাবেই প্রাইভেট পড়ানোর প্রতি নির্ভরশীল না হন, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো অভিভাবক বা শিক্ষার্থী যদি অভিযোগ করেন যে প্রাইভেট না পড়ালে ফেল করানো হচ্ছে—আমরা সেটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করব।” তিনি আরও বলেন,“শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির জন্য সকল পক্ষের মধ্যে স্বচ্ছতা ও বিশ্বাস গড়ে তোলা জরুরি।

 

আমরা শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, মনিটরিং এবং অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময়ের মাধ্যমে শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি।” অভিভাবক তোহরা আক্তার বলেন, “আমাদের সন্তানেরা নিজেদের আগ্রহে পড়াশোনা না করলে শুধু শিক্ষকদের দায়ী করা ঠিক না। তবে শিক্ষকরা যদি প্রাইভেট না পড়লে নম্বর কম দেন, তাহলে সেটা খুবই দুঃখজনক।” আরেক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, “এই স্কুলে কিছু শিক্ষক প্রাইভেট পড়ানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। প্রাইভেট না পড়লে ফেল করিয়ে দেয়ার হুমকিও দেয়া হয়। এটা বন্ধ হওয়া দরকার।” সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গণিত শিক্ষক আব্দুস সামাদ, ইংরেজি শিক্ষক ঈমান উদ্দিন টফি, সহকারী শিক্ষক লুহফর রহমান প্রমুখ। তারা সবাই শিক্ষার্থীদের পাঠদানের মান উন্নয়নের পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় গুরুত্ব দেয়ার কথা বলেন। সমাবেশে বিপুল সংখ্যক অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর

Developed By: Dotsilicon