![]()
মো. শামীম হোসাইন
পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার গাওখালী ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে—কচুরিপানাকে ঘিরে। যে উদ্ভিদ এক সময় ছিল অযত্নের আগাছা, এখন তা হয়ে উঠেছে শত শত পরিবারের জীবিকার প্রধান উৎস।
এই অঞ্চলের নদীনালা, খালবিল ও পুকুরে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো কচুরিপানা সংগ্রহ করে স্থানীয়রা তা শুকিয়ে ও প্রক্রিয়াজাত করে বিক্রি করছেন। প্রতিদিন সকাল হলেই ছোট ছোট নৌকা নিয়ে তাঁরা ছুটেন বিলের দিকে। সংগ্রহ করা কচুরিপানা শুকিয়ে প্রতিকেজি ৫০ টাকায় বিক্রি করা হয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, শুধু সোনাপুর গ্রামেই প্রতি মাসে প্রায় ১০ টন শুকনা কচুরিপানার বেচাকেনা হয়। এই কাঁচামাল পাঠানো হয় দেশের উত্তরাঞ্চলের কুটির শিল্প অঞ্চলগুলোতে, বিশেষ করে রংপুরে। সেখানে তৈরি হয় রঙিন পাটি, হাতব্যাগ, টুপি, পাপোশ, জায়নামাজসহ নানা ধরনের হস্তশিল্পপণ্য, যেগুলো রপ্তানি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, কানাডা, জাপানসহ বিশ্বের ২৫টির বেশি দেশে।
স্থানীয় কৃষক আলামিন বলেন, ‘এখানে কেউ জমি চাষ করে না, শুধু বিল থেকে কচুরিপানা তুলে শুকিয়ে বিক্রি করলেই রোজগার হয়। তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা যোগাযোগব্যবস্থা। রাস্তা নেই, ভরসা শুধু নৌকা। রাস্তা আর কালভার্ট হলে দারিদ্র্য অনেকটাই দূর হতো।’
এই কাজের সঙ্গে যুক্ত গৃহবধূ, যুবক ও স্কুলপড়ুয়া ছাত্রছাত্রীরাও। এটি এখন শুধু আয়ের উৎস নয়, বরং সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় জলিল বলেন, ‘কচুরিপানার ডগা দিয়ে তৈরি হচ্ছে ঝাড়, পাটি, পাপোশ এমনকি জায়নামাজ, যা বিদেশে বেশ জনপ্রিয়।’
উদ্যোক্তা মামুন হোসেন বলেন, ‘আমরা এখান থেকে শুকনা কচুরিপানা কিনে রংপুরে পাঠাই। সেখানে কুটির শিল্পে ব্যবহৃত হয়ে তা বিদেশেও যাচ্ছে।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘শুনেছি গাওখালী এলাকার কচুরিপানা বিদেশে যাচ্ছে। এটি খুবই ইতিবাচক। যদিও এগুলো চাষ না করে প্রাকৃতিকভাবে জন্মায়, তারপরও আমরা ভাবছি কীভাবে কৃষকদের এই উদ্যোগে সহায়তা করা যায়।’
এক সময়ের অবহেলিত কচুরিপানা এখন আর ফেলনা নয়। বরং তা হয়ে উঠেছে সোনাপুরসহ আশপাশের গ্রামের ‘সোনার ফসল’। যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হলে এই অঞ্চল একটি নতুন ধরনের গ্রামীণ শিল্পবিপ্লবের পথে হাঁটতে পারে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।



মন্তব্য