![]()
মো. জিয়াউল ইসলাম ,পাথরঘাটা প্রতিনিধি
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় কালমেঘা ইউনিয়নের ৪নংওয়ার্ড কালিবাড়ি এলাকায় প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজের ধানের পালায় আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠছে হযরত আলী মালের বিরুদ্ধে
২৫ জানুয়ারি রোজ শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ৬৬০ শতাংশ জমির ধানের তিনটি পালায় ,প্রতিপক্ষ সেকান্দার আলী হাওলাদার কে ফাঁসাতে আগুন দিয়েছে হযরত আলীর বড় ছেলে মোঃ সরওয়ার।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, সেকান্দার আলী হাওলাদারের সঙ্গে হযরত আলী মালের জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিনের পূর্ব শত্রুতার চলে আসছিল।
তাই সেকান্দার আলী হাওলাদারকে ফাঁসাতে নিজের ধানের পালায় আগুন দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে হযরত আলী মাল।
স্থানীয় মোঃ জালাল আহমেদ জানান, ধানের পালায় আগুন লাগার খবর শুনে আমরা ঘটনাস্থলে হাজির হই তখনই হযরত আলীর ছেলে সরোয়ারের সাথে তার বাবা রাগারাগি করছে এবং ছেলেকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল ।
এমন সময় সরোয়ার এর মা হযরত আলীর পা ধরে কান্না করে। তারপরে ঘটনাস্থলে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বে থানার একটি ফোর্স ঘটনাস্থলে হাজির হয়। তখনই হযরত আলীর সুর পাল্টে যায়। তারপরেও ওই রাতে হযরত আলী কারো বিরুদ্ধে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে কোন ধরনের অভিযোগ করেনি।
কিন্তু অন্য কোন ব্যক্তির কু -পরামর্শে একটি নিরীহ পরিবারের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে । আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং এই হযরত আলীর বিচার দাবি করছি ও স্থানীয় আব্দুল্লাহ একই কথা সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন এবং হযরত আলী ও সরোয়ারের বিচার দাবি করেন।
এদিকে হযরত আলী মালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার পৈতৃক ও কৰলাকৃত, এগ্রিমেন্ট ও একশনা বাবদ ৬৬০ শতাংশ জমির লাল ও সাদা মোটা ধানা অনুমান ২০৫ মন ধান্য আমার বাড়ীর দরজার পালায় রাখি। অতঃপর ২৫ জানুয়ারি রোজ শনিবার দিবাগত রাত্র অনুমান ১.৩০ ঘটিকার সময় বিবাদীরা আরো অপরিচিত ১০/১২ জন লোক নিয়া অসৎ উদ্দেশ্যে আমার বাড়ীর সামনে পালায় রাখা সাদা ও মোটা ধান্য পেট্রোল দিয়া জ্বালাইয়া দেয়। যাহার মূল্য অনুমান ২,৯৬,৫০০/- টাকা। আমি তখন ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলাম। তিনি আরো জানান, আমার প্রতিবেশী মোঃ সেকান্দার আলীর পরিবার এমন ঘটনা ঘটাতে পারে।
প্রতিবেশী মোঃ হেমায়েত উদ্দিন জানান, আগুন লাগার ঘটনা শুনে আমিও ঘটনাস্থলে যাই, তখন গিয়ে দেখি ধানের পালা আগুনে জ্বলছে অন্যদিকে হযরত আলী ও সরোয়ার মধ্যে ভাগ বাগবিতান্ডা চলছে, তখনো প্রতিবেশী সিকান্দার আলী হাওলাদারের বিরুদ্ধে কোন ধরনের অভিযোগ করেননি। তবে অপরাধী যেই হোক বিচার দাবি করছি।
এবং কোন ধরনের নিরপরাধ ব্যক্তিদের জড়ানোর চেষ্টা করা হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে মানববন্ধনের আয়োজন করব।
এদিকে সেকান্দার আলীর সঙ্গে দেখা করা হলে তিনি বলেন ,জমি জমা নিয়ে সাধারণ মনমালিন্য রয়েছে তাদের সঙ্গে কিন্তু এই কারণে ধানের পালায় আগুন আগুন দিয়ে আমার পরিবারকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে।তবে যারা আগুন দিয়েছে তাদের বিচার দাবি করছি।
পাথরঘাটা থানায় যোগাযোগ করা হলে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, আগুন লাগার ঘটনা শুনে ঘটনাস্থলে ফোর্স নিয়ে আমি হাজির হই । ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ও আমার সোর্সের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসি। কিন্তু তখন কেউ আমাদের কাছে অভিযোগ দায়ের করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে সত্য ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।



মন্তব্য