![]()
আবু ইসহাক অনিক: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘নজরুল অধ্যয়নের বৈশ্বিক বাস্তবতা’ শীর্ষক দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় কনফারেন্স কক্ষে দিনব্যাপী সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। যার উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর। সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন প্রখ্যাত নজরুল গবেষক ও যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাচাচুসেটসের সাবেক উপাচার্য (শিক্ষা) এমিরিটাস অধ্যাপক ড. উইন্সটন ই. ল্যাংলি, যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্নাড কলেজের অধ্যাপক ড. র্যাচেল এফ. ম্যাকডরমেট, প্রখ্যাত ক্যান্সার গবেষক ও নজরুল গবেষক ড. গুলশান আরা ও নজরুল সঙ্গীত শিল্পী কাজী বেলাল শাহজাহান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে কাজী নজরুল ইসলামের ‘অঞ্জলি লহ মোর’ গানের সাথে নৃত্য পরিবেশন করা হয়। এরপর অতিথিদের উত্তরীয়, স্মারক ও ক্রেস্ট তুলে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর।
সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর বলেন, নজরুল খুব শৈশবে এই ত্রিশালে এসেছিলেন। তিনি ভারত থেকে প্রথমবার বাংলাদেশের ত্রিশালে আগমন করেন। এই আগমনের একটি ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। নজরুলের নামে আমাদের এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখানকার প্রত্যেক শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নজরুলকে একজন আদর্শ ধরে তাদের জীবনধারণ করেন। প্রতিটি বিভাগে ১০০ নম্বরের কোর্সের মধ্যদিয়ে নজরুলকে অধ্যয়ন করা হয়।
বাংলা সাহিত্য ও সঙ্গীতে নজরুলের অবদানের কথা স্মরণ করে উপাচার্য বলেন, নজরুল বাংলাদেশের জাতীয় কবি। ব্রিটিশ শাসনামলে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার ছিলেন। কবিতা, গান, সাংবাদিকতার মধ্যদিয়ে ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে তিনি লিখে গেছেন। সবধরনের অনাচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন বজ্রকন্ঠ।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রশাসন এই বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের একটি স্মার্ট ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। ‘শিক্ষা, গবেষণা ও উন্নয়ন’-এই মোটো নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। নজরুলকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে কাজ করে যাচ্ছি। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আমাদের এমওইউ স্বাক্ষরিত হচ্ছে। আমি এ বিষয়ে আরো গতিশীলতার জন্য সকলের সহযোগিতা চাই।
তিনি বলেন, নজরুল অন্যায়ের বিরুদ্ধে লেখনী ধারণ করেছিলেন। বিশ্বে যতদিন অন্যায় থাকবে নজরুলের রচনার উপযোগিতা থাকবে। নজরুল প্রেমের জয়গান গেয়েছিলেন। মানুষ প্রেমের কথা ভাবলে তাঁর দারস্থ হতে হবে। নজরুল মানবতার কবি ছিলেন। বিশ্বে মানবতাবাদ প্রতিষ্ঠা করতে হলে তাঁর রজনা প্রেরণা হবে। এখানেই নজরুলের বৈশ্বিক আবেদন এবং এটাই এই কনফারেন্সের মূলকথা।
উদ্বোধনী অধিবেশনে অন্য বক্তারা বলেন, বিশ্বসাহিত্যে এখনো নজরুল তেমনটা পরিচিত নন। পশ্চিমা বিশ্বে নজরুল সাহিত্যের ততটা প্রচার ও প্রসার নেই। যা অত্যন্ত দু:খজনক। নজরুলের সাহিত্যগুলিকে ভালো অনুবাদের মধ্যদিয়ে আমাদের সারাবিশ্বে ছড়িয়ে দিতে হবে। এজন্য শিক্ষক, গবেষকদের এগিয়ে আসতে হবে। বর্তমান প্রেক্ষপটে সারাবিশ্বের জন্য নজরুল খুব প্রয়োজনীয়। নজরুলকে নিয়ে পড়াশুনা অত্যাবশ্যকীয়।
যেখানে উপদেষ্টা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মুশাররাত শবনম, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. রিয়াদ হাসান, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন ও প্রক্টর প্রফেসর ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান, আইকিউএসি পরিচালক প্রফেসর ড. শাহাবউদ্দিন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক উম্মে ফারহানা ও মো. আবদুল্লাহ আল মুক্তাদির।
প্রথম অধিবেশন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব নজরুল স্টাডিজ থেকে এবার বৃত্তিপ্রাপ্ত হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ১৬ জন শিক্ষার্থী।



মন্তব্য