বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
 

সোনারগাঁয়ে মোবারকের চাঁদাবাজি ও মাদকে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

 ---

নিজস্ব প্রতিবেদক
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মোবারক হোসেন মোবার চাঁদাবাজি ও মাদকে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষ। এছাড়াও কিশোর গ্যাংয়ের মাধ্যমে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মদদদাতা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। মোগরাপাড়া চৌরাস্তার চাঁদাবাজি, মাদক, ছিনতাই ও কিশোরগ্যাংয়ের সকল অপকর্ম তার হাতের মুঠোয়। তার এসব অপকর্মে প্রতিবাদ করলেও ডিবি পুলিশের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করে থাকে। তার অত্যাচারে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।

সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর থেকে হাবিবপুর গ্রামের ইদ্রিস আলী ইদার ছেলে  মোবারক হোসেন মোবা নিজেকে বিএনপির নেতা পরিচয় দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সড়ক ও জনপথ বিভাগ সওজের জায়গার ফুটপাত দখল করে দোকান বসিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকা আদায় করে থাকে। এ টাকার ভাগ মোগরাপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির দু’জন প্রভাবশালী নেতাকে দেওয়া হয়। ফলে ওই দুই নেতা মোবার পক্ষে থাকার জন্য এমপিকে ম্যানেজ করেন।

এদিকে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় মাদকের ডিলার হিসেবে মোবারক হোসেন মোবার নাম অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। আশপাশের ছোট ছোট মাদক ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন সন্ধ্যার পর তার কাছ থেকে মাদক নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় খুচরা বিক্রি করে থাকে। কোন মাদক ব্যবসায়ী তার কাছ থেকে মাদক পাইকারী দামে না নিলে ওই ব্যবসায়ীকে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেয়। ফলে বাধ্য হয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা তার কাছ থেকে পাইকারী দামে মাদক ক্রয় করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করেন।

জানা যায়, মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় ছোট একটি টংদোকানে বসে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করে থাকে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এ টং দোকান বন্ধ থাকলেও আছরের পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এ দোকান খোলা থাকে। এ দোকান থেকেই বিশেষ ইঙ্গিত ব্যবহার করে মাদক পাইকারি দরে বিক্রি করে থাকে।

স্থানীয়দের দাবি, ১০-১২ জনের একটি কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্বে দেন এ মোবারক হোসেন মোবা। এ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের দিয়ে সে মোগরাপাড়া এলাকায় চুরি, ছিনতাই নিয়ন্ত্রন করে থাকে। মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় নারী ছিনতাকারীদেরও সে নেতৃত্বে রয়েছে। বিভিন্ন মার্কেটে চিটাগাংরোড থেকে নারী ছিনতাইকারী এনে সে নারীদের মোবাইল,স্বর্ণের গলার চেইন, ও টাকা পয়সা লুট করিয়ে থাকে। ছিনতাইয়ের মোবাইল ও স্বর্নের চেইন বিক্রি করে যে টাকা পাওয়া যায়, ওই টাকা থেকে অর্ধেক টাকা মোবারক হোসেন মোবা পেয়ে থাকেন।

স্থানীয়রা আরো জানান, কোন ছিনতাইকারী সাধারণ মানুষের কাছে ধরা পরলেই সেখানে মোবারক হোসেন মোবা গিয়ে সাধারণ মানুষকে ভুল বুঝিয়ে পুলিশের দেওয়ার নাম করে তার জিম্মায় নিয়ে আসে। পরবর্তীতে সে ছেড়ে দেয়। গরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকার সাধারণ ব্যবসায়ীদের দাবি, রাতে বিভিন্ন সময়ে তারা টাকা পয়সা নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ছিনতাকারীদের কবলে পড়ে নিঃস্ব হন।এসব ছিনতাইয়ে অংশ নেন কিশো গ্যাংয়ের সদস্যরা।

মোবারক হোসেন মোবার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে এসব অপ প্রচার। তিনি একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। ছোট একটি দোকানে ব্যবসা করে তিনি সংসার চালান বলে দাবি করেন।

সোনারগাঁ থানার ওসি মহাম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও মাদক নিয়ন্ত্রনে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। এসব অপকর্মে যেই জড়িত থাকুন না কেন তার  বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য

সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর

Developed By: Dotsilicon