বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
 

আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়েছে জৌলুস: অলস সময় পার করছেন সোনাইচন্ডী হাটের ছাতুড়িয়ারাঃ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬

 ---

মোঃ হেলাল উদ্দীন, নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি: 
আকাশ জুড়ে মেঘের ঘনঘটা আর রিনিঝিনি বৃষ্টির শব্দ। আষাঢ়- শ্রাবণের এ ভরা মৌসুমেও চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সোনাইচণ্ডী হাট এলাকায় আর আগের মতো চোখে পড়েনা ছাতা মেরামতের সেই চিরচেনা দৃশ্য। এক সময়ের বর্ষার অপরিহার্য এই পেশাটি আজ সস্তা ও সহজলভ্য চাইনিজ ছাতার দাপটে বিলুপ্তির পথে। মেরামতের সরঞ্জামের আকাশচুম্বি দাম আর ক্রেতাদের অনিহার কারণে সোনাইচণ্ডী হাটের ছাতা কারিগরদের টুংটাং শব্দ এখন অনেকটাই নীরব।

স্থানীয় প্রবীনদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এক দশক আগেও বর্ষা মৌসুম আগমনের মাস দুইয়েক আগ থেকেই সোনাইচন্ডী হাটের ছাতা কারিগরদের দম ফেলার ফুরসত থাকত না। গ্রামীণ মানুষ তাদের পুরানো ও নষ্ট ছাতাগুলো নিয়ে হাটে ভিড় জমাতেন। কিন্তু বর্তমান প্রযুক্তির যুগে সেই জৌলুস আর নেই।বাজারে এখন মাত্র ১৫০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে দেখতে সুন্দর ও ওজনে হালকা চাইনিজ ছাতা পাওয়া যায়।

অন্যদিকে, একটি পুরানো ছাতার কাপড়, ভেতরের লোহার সিক বা বাঁট পরিবর্তন করতে গেলে খরচ পড়ে নতুন ছাতার কাছাকাছি। ফলে সাধারণ মানুষ মেরামতের চেয়ে নতুন ছাতা কেনাকে বেশি সাশ্রয়ী মনে করছেন।  সোনাইচণ্ডী হাটের ছাতা মেরামতকারী ষাটার্ধো বয়সী আঃ রউফ বলেন, বাপ-দাদার আমল থেকে এই কাজই করে আসছি। আগে বর্ষা আসার দুই মাস আগে থেকেই সোনাইচন্ডি হাটে হাটে দম ফেলানোর সময় পেতাম না। এখন আগের মত কাজ না থাকায় অনেকে পেশা বদলাতে বাধ্য হচ্ছে। এ পেশা এখন শুধুই অতীত।

এদিকে সময় মত ছাতা মেরামতের কারিগর না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন অনেক প্রবীণ ক্রেতা। তাদের মতে, আজ থেকে ২০ বছর আগে আষাঢ় মাস আসলেই গ্রামে গ্রামে ছাতা মেরামতের কারিগর ঘুরে বেড়াতো। কিন্তু এখন সেই দৃশ্য আর চোখে পড়ে না। ফলে আমাদের বাধ্য হয়ে সোনাচন্ডী হাটে ছাতা মেরামত করতে আসতে হয়।।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যুগের পরিবর্তণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির সস্তা পণ্যের আগ্রাসনে গ্রামীন অর্থনীতির অনেক ঐতিহ্যবাহী পেশাই  আজ বন্ধের মুখে। সরকারি বা বেসরকারি কোনো উদ্যোগ না থাকলে সোনাইচণ্ডী হাটের এই ছাতা মেরামত শিল্পটি চিরতরে হারিয়ে যাবে ইতিহাসের পাতায়।

মন্তব্য

সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর

Developed By: Dotsilicon