![]()
বিশেষ প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার সলিমগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদে এক চাঞ্চল্যকর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি এবং বর্তমানে কারাগারে আটক থাকা সত্ত্বেও সলিমগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা পদে বহাল রয়েছেন আক্তার মিয়া (৪১) নামের এক ব্যক্তি। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে পদটি আঁকড়ে রেখে তথ্য সেবা কার্যক্রম ব্যাহত করার পাশাপাশি ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও মামলার বাদী পক্ষ। অনুসন্ধানে জানা যায়, আক্তার মিয়া নবীনগর উপজেলার বাড়াইল গ্রামের রমজান আলীর ছেলে। ২০১০ সালে সলিমগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে টানা ১৬ বছর তিনি একই পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলীয় প্রভাব ও চেয়ারম্যানকে নানাভাবে ‘ম্যানেজ’ করে তিনি টিকে থাকেন। সম্প্রতি একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গেলেও তার বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, নবীনগর থানায় দায়েরকৃত হত্যা মামলা (মামলা নং-২, তারিখ: ০১/০৫/২০২৫ খ্রিঃ, জিআর নং-৯০/২৫, ধারা: ৩০২/৩৪ পেনাল কোড)-এর ১৪ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি এই আক্তার মিয়া।
বর্তমানে তিনি এ মামলায় জেলহাজতে রয়েছেন। মামলার বাদী ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি কীভাবে জেলে থেকেও তার স্রী জেসমিন কে দিয়ে উদ্যোক্তার পদে বসে থেকে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, খুঁজ নিয়ে আরোও জানা যায় উদ্যোক্তা পদের মেয়াদ শেষ অনেক আগেই, প্রশ্ন হলো কোন ক্ষমতা বলে আক্তার সরকারি সেবা প্রদানকারী একটি পদে বহাল থাকে, তা বোধগম্য নয়। চেয়ারম্যানের প্রত্যক্ষ যোগসাজশ ও অবহেলার কারণেই আক্তার মিয়ার পদটি এখনো বহাল রাখা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। এ বিষয়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর বক্তব্য, একজন হত্যা মামলার আসামি জেলে বসে ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সেন্টারের দায়িত্ব পালন বা ধরে রাখা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এতে পরিষদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং আমরা সাধারণ নাগরিকরা সঠিক তথ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। এলাকাবাসী ও মামলার বাদী পক্ষ অবিলম্বে হত্যা মামলার আসামি আক্তার মিয়াকে উদ্যোক্তা পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে একজন যোগ্য ও বিতর্কহীন নতুন উদ্যোক্তা নিয়োগের জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।



মন্তব্য