![]()
জামাল খান,জেলা সংবাদদাতা
টানা বর্ষণ অথবা সামান্য বৃষ্টি হলেই ভোলার দৌলতখান উপজেলার বেড়িবাঁধ সড়কগুলো এখন সাধারণ মানুষের জন্য এক চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের বেড়িবাঁধের রাস্তাগুলো যাতায়াতের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। রাস্তা জুড়ে সৃষ্টি হচ্ছে হাঁটু সমান কাদা আর বড় বড় গর্ত, যার ফলে প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দৌলতখান উপজেলার সৈয়দপুরসহ মেঘনা নদী তীরবর্তী বিভিন্ন ইউনিয়নের বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে তৈরি কাঁচা ও আধা-পাকা রাস্তাগুলো বৃষ্টির কারণে পুরোপুরি কাদা-পানিতে একাকার হয়ে গেছে। কোনো কোনো অংশে হেঁটে চলারও উপায় নেই।
যেমনটা হয়েছে সৈয়দপুর ৮নং ওয়ার্ডের বেরিবাধ থেকে “৪৫ নং বড়ধলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত”।শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি স্কুলে যেতে হচ্ছে এই কষ্ট সহ্য করে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই বেড়িবাঁধের রাস্তাগুলো ব্যবহার করে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক ও চাকরিজীবীসহ হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে রাস্তা দিয়ে কোনো যানবাহন তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটে চলাচলো দুষ্কর হয়ে পড়েছে।”একটু বৃষ্টি হলেই এই রাস্তা দিয়ে আর হাঁটা যায় না। পিছলে পড়ে গিয়ে জামাকাপড় নষ্ট হয়, প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে। অসুস্থ রোগী বা গর্ভবতী মায়েদের হাসপাতালে নেওয়া আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
ব্যবসায়ী ও কৃষকরা জানান, রাস্তা খারাপ হওয়ার কারণে তারা সময়মতো বাজারে পণ্য পৌঁছাতে পারছেন না। এতে তাদের আর্থিক লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে। অন্যদিকে, কাদার কারণে শিক্ষার্থীরা সময়মতো স্কুল-কলেজে যেতে পারছে না, ব্যাহত হচ্ছে তাদের শিক্ষা জীবন।
দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের মানুষ বেড়িবাঁধের রাস্তাগুলো পাকাকরণ বা টেকসই সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছেন। বর্ষা মৌসুম এলেই এই ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়, অথচ স্থায়ী কোনো সমাধান মিলছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজের দাবি, দৌলতখান ও সৈয়দপুরসহ ক্ষতিগ্রস্ত সব ইউনিয়নের বেড়িবাঁধের রাস্তাগুলো দ্রুত সংস্কার ও পাকাকরণ করা হোক। হাজার হাজার মানুষের এই নিত্যদিনের দুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন—এমনটাই প্রত্যাশা এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের।



মন্তব্য