![]()
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিঃ শেখ মো আরমান
গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় চোর আটক ও ছিনিয়ে নেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে একটি সামাজিক সংগঠনের কার্যালয় ও বেশ কিছু বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়।
গতকাল বুধবার (২৪ জুন) রাতে উপজেলার ঘাঘরকান্দা-বেপারীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
চোর আটক ও ছিনতাই: ঘটনার সূত্রপাতঃ-
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা যায়, ঘাঘরকান্দা-বেপারীপাড়া গ্রামের এক ব্যক্তির গাড়ি থেকে সম্প্রতি ব্যাটারি চুরির ঘটনা ঘটে। বুধবার রাতে ঘাঘরকান্দা-বেপারীপাড়া গ্রামের ‘মাদক প্রতিরোধ কমিটি’র সদস্যরা চুরির অভিযোগে তিন যুবককে আটক করেন। আটক ব্যক্তিরা হলেন— কাঠি গ্রামের মোরসালিন মিয়া, চিতশী গ্রামের রাসেল দাড়িয়া ও ঘাঘরকান্দা গ্রামের আব্দুল্লাহ দাড়িয়া। চুরির মালামাল বিক্রির কথা স্বীকার করায় তাদের কমিটির কার্যালয়ে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
অভিযোগ উঠেছে, এই খবর কাঠি ও চিতশী গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একদল লোক এসে মাদক প্রতিরোধ কমিটির কার্যালয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। তারা কার্যালয় ও আশেপাশের বাড়িঘর ভাঙচুর করে আটক থাকা তিন অভিযুক্তকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় বাধা দিতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ বেঁধে যায়।
আহতদের তালিকা ও বর্তমান অবস্থা
সংঘর্ষে গুরুতর আহত ১৪ জনকে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের শরীরে লাঠি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীনরা হলেন— ওহাব গাজী (৬০), জালাল গাজী (৪৫), খলিল গাজী (৪৮), আরিফুল গাজী (৩০), জলিল গাজী (৪৬), ছনিয়া খানম (১৯), মাজেদা বেগম (৪৫), হান্নান বরকতউল্লাহ (৫৫), মুকুল মুন্সী (৪৮), অলি বরকতউল্লাহ (৩৫), তাওসীন বরকতউল্লাহ, হানিফ শেখ (৪৫), হাবিব মুন্সী (৪২) এবং জাহিদুল বরকতউল্লাহ (৩৮)। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
মুখোমুখি দুই পক্ষ: কে কী বলছেন?
মাদক প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক জসিম মোল্লা বলেন, “আমরা সুনির্দিষ্ট চুরির অভিযোগে ওই তিনজনকে আটকে রেখে আইনি প্রক্রিয়ার জন্য পুলিশকে খবর দিয়েছিলাম। কিন্তু কাঠিগ্রামের লোকজন আইন নিজেদের হাতে তুলে নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। তারা আমাদের কার্যালয় ও ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে এবং নারীদের ওপরও হাত তুলেছে।”
পাল্টা দাবি করে কাঠিগ্রামের ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমাদের লোকজনকে মাদক প্রতিরোধ কমিটির নাম করে অন্যায়ভাবে আটকে রেখে মারধর করা হচ্ছিল। আমরা কোনো ভাঙচুর বা হামলা করিনি। উল্টো তাদের মারধরেই আমাদের মানুষ আহত হয়েছে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রিয়াদ মাহমুদ জানান, “ঘটনার পর পরই পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষের পক্ষ থেকেই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”



মন্তব্য