![]()
মোঃ শাকিল মোল্লা,রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে গভীর রাতে রন্জু মিস্ত্রি নামে এক ব্যাক্তির বাড়িতে কাফনের কাপড় ও উড়ো চিঠি পাঠিয়ে প্রাননাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই পরিবারসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে।
পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কাফনের কাপড়, উড়ো চিঠি ও একটি খিলিপান জব্দ করেছে। উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের স্বরূপার চক এলাকার বাসিন্দা রন্জু মিস্ত্রির বাড়িতে বুধবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী রন্জু মিস্ত্রি জানান, প্রতিদিনের মতো বুধবার রাতে তারা বাড়ির সবাই রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। গভীর রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা তার বাড়ির বারান্দায় একটি সাদা কাফনের কাপড় এবং একটি খোলা চিঠি রেখে যায়।
সকালে পরিবারের সদস্যরা ঘুম থেকে উঠে বারান্দায় কাফনের কাপড় এবং ওই চিঠিটি দেখতে পান। ঘটনার পর হতে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা চরম দুশ্চিন্তায় সময় পার করছি। খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বেনামী ওই চিঠির শিরোনামে লেখা হয়েছে, “বাঁচার দিন শেষ,ভাই-ভাবির রেশ।”
ভেতরে লেখা হয়েছে -”অতি দুঃখের সহিত জানাচ্ছি যে,ভাই-ভাবি তোমরা তোমাদের মনের মতো খাবার খেয়ে নাও।ভাই-ভাবি তোমাদের যে কোন সময় ডাক পড়তে পারে।তাই তোমাদের মনের যত ইচ্ছে আছে সব পূরন করে নাও।তোমাদের সব কুকৃত্তি ফাঁস হয়েছে। তাই তোমাদের এ দেশ ছেড়ে যেতে হবে।ভাই-ভাবি এবং তোমাদের ছেলে সন্তানকে অতি দুঃখ কষ্টে দিন পার করতে হবে। আমাদের জমিগুলো ছেড়ে দেবার ব্যবস্থা করার জন্য বলা হলো। এবং সীমানা ঠিক রাখার জন্য বলা হলো।অতএব ভাই-ভাবি এবং তোমার ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা করা হবে। সময় এক বছর। ভাবি তুমি অনেক খারাপ লোক। ভালো হতে কোন টাকা পয়সা লাগে না। তুমি গ্রামের নটি এবং কিট।”
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গভীর রাতে কাফনের কাপড় রেখে যাওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং চরম হুমকির বিষয়। আমরা এখন রাতে ঘুমাতেও ভয় পাচ্ছি। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং এলাকায় পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করার জোর দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনা শোনার পর তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে তারা কাজ করছেন।



মন্তব্য