![]()
সামরুল হক, স্টাফ রিপোর্টার:
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে নৃশংসভাবে গলাকেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক, আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতদের মধ্যে তিন শিশু, এক নারী ও এক যুবক রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।
শুক্রবার (০৮ মে) গভীর রাতে উপজেলার রাউতকোনা গ্রাম এলাকায় এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, প্রতিদিনের মতো রাতের খাবার শেষে পরিবারের সদস্যরা নিজ নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। গভীর রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা ঘরে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে একে একে পরিবারের সদস্যদের গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায়। তবে কীভাবে দুর্বৃত্তরা ঘরে প্রবেশ করেছে কিংবা হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা জড়িত—তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শনিবার সকালে দীর্ঘ সময় পরিবারের সদস্যদের কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। পরে তারা ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে রক্তাক্ত অবস্থায় একাধিক মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। মুহূর্তেই খবরটি পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘটনাস্থলে শত শত মানুষ ভিড় জমায়।
খবর পেয়ে বাংলাদেশ পুলিশ এর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। এ সময় পুরো বাড়িজুড়ে রক্তের দাগ ও হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ আলামত দেখতে পান তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পরে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
কাপাসিয়া থানা এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিনুর আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,
“একই পরিবারের পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে এবং হত্যার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের পেছনে পারিবারিক বিরোধ, পূর্বশত্রুতা, ডাকাতি নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে—সব বিষয় গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশ। পাশাপাশি জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে একাধিক টিম কাজ শুরু করেছে।
এদিকে, একসঙ্গে পাঁচজনের মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বিশেষ করে তিন শিশুর নির্মম হত্যাকাণ্ডে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও কান্নার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অনেকে এ ঘটনাকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ পারিবারিক হত্যাকাণ্ড বলে মন্তব্য করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।



মন্তব্য