![]()
এনামুল হক, বিশেষ প্রতিনিধি
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার ইসলামিক কমপ্লেক্স দাখিল পরীক্ষাকেন্দ্রে ধারাবাহিক মূল্যায়ন পরীক্ষার নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্র সচিবের বিরুদ্ধে।
অভিযোগে জানা গেছে, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ধারাবাহিক মূল্যায়ন পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীপ্রতি মাত্র ২৫ টাকা ফি নির্ধারণ করলেও কেন্দ্র সচিব সেই নির্দেশনা মানছেন না। পরীক্ষাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে জনপ্রতি ১৫০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরীক্ষার হলে দায়িত্ব পালনকারী কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, হল সুপার মাওলানা হোসাইন আহমেদ প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ১৫০ টাকা করে সংগ্রহ করে তার কাছে জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
এমনকি তার নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কাউখালী ইসলামিক কমপ্লেক্স মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও ১৫০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থী ও কয়েকজন শিক্ষক।
এছাড়াও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দাখিল পরীক্ষা কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব মাওলানা হোসাইন আহমেদ প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১৫০ টাকা করে উত্তোলনের নির্দেশ দেন। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের ৫০ টাকা রেখে বাকি ১০০ টাকা তার কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অথচ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের পরিপত্র অনুযায়ী, আইসিটি ধারাবাহিক মূল্যায়ন পরীক্ষার জন্য মাত্র ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই অর্থেরও নির্দিষ্ট খাতভিত্তিক বণ্টনের নিয়ম রয়েছে। সরকারি বিধি মোতাবেক পরীক্ষা চলাকালীন সময় বা তার আগে ফরম পূরণ, প্রবেশপত্র ফি এবং মূল্যায়ন ফি বোর্ড নির্ধারিত টাকার বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব নিয়মের তোয়াক্কা না করে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে, যা অনেকের ভাষায় “চাঁদাবাজির শামিল”।
এ ঘটনায় অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে দুর্নীতিবিরোধী সংগঠন গ্রিন ফোর্স বাংলাদেশ-এর কাউখালী উপজেলা কমিটির উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট জহুরুল ইসলাম বলেন, “পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে কোনোভাবেই বাড়তি টাকা আদায়ের সুযোগ নেই। অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা চাঁদাবাজির সমতুল্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।” তিনি বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয় কেন্দ্র সচিব মাওলানা হোসেন আহমেদের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে বলেন পরীক্ষা কেন্দ্রে অতিরিক্ত খরচা মিটানোর জন্য বাড়তি টাকা চাওয়া হয়েছে।
সুনির্দৃষ্ট ভাবে কয় টাকা চেয়েছেন জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে যান। এবং বলেন সাংবাদিকদের কাছে আমি জবাবদিহি করতে বাধ্য না। আপনাকে বলতে হবে কেন? আপনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছ থেকে জেনে নেন। আমার বলতে হলে কর্তৃপক্ষের কাছে বলব।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, “অভিযোগের বিষয়টি আমার জানা নেই। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে থাকলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



মন্তব্য